Manipur: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ৫ দিন পর উদ্ধার নাগা ব্যক্তির কাটা মাথা, মণিপুরে বাড়ছে উত্তেজনা

Manipur: এর আগে গত ১২ অক্টোবর কাংপোকপি জেলায় হিংসার ঘটনায় ব্যক্তির কাটা মাথা ফেরানোর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল নাগা নাগরিক সংগঠন।

Published on: Oct 15, 2026, 20:00:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Manipur: উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য মণিপুরে (Manipur) অশান্তির কালো মেঘ কাটছেই না। সম্প্রতি সংঘটিত নতুন হিংসাত্মক ঘটনায় কমপক্ষে নয়টি তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছে। আহত হয়েছিলেন আরও বেশ কয়েকজন। অবশেষে মণিপুরের কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলায় সেই সন্দেহভাজন সশস্ত্র কুকি দুষ্কৃতীদের হামলায় নিহত নাগা ব্যক্তি অজিনবৌ রিংকাংমাইয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করল নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনার পাঁচ দিন পর বুধবার তাঁর এই দেহাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

মণিপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ৫ দিন পর উদ্ধার নাগা ব্যক্তির কাটা মাথা (সৌজন্যে এক্স )
মণিপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ৫ দিন পর উদ্ধার নাগা ব্যক্তির কাটা মাথা (সৌজন্যে এক্স )

গত ১০ অক্টোবর কাংপোকপি জেলার মাকুই আশাং গ্রামে সন্দেহভাজন সশস্ত্র কুকি দুষ্কৃতীদের হামলায় অজিনবৌ নিহত হন বলে অভিযোগ। অভিযোগ, হামলার পর তাঁর মাথা কেটে নিয়ে চম্পট দিয়েছিল আততায়ীর দল। শনিবারই ছদ্মবেশী পোশাক পরা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজনের সঙ্গে অজিনবৌয়ের কাটা মাথা রয়েছে, এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। সিআরপিএফ (CRPF) এবং মণিপুর পুলিশের এক যৌথ দল ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী একটি এলাকা থেকে নিখোঁজ মাথাটি উদ্ধার করেছে।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর কাংপোকপি জেলায় হিংসার ঘটনায় ব্যক্তির কাটা মাথা ফেরানোর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল নাগা নাগরিক সংগঠন। তাদের অভিযোগ ছিল, সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ৫২ বছর বয়সি অজিনবৌ আর-এর মাথা এখনও নিখোঁজ। মাথাবিহীন দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার রাতে ইম্ফলের জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (জেএনআইএমএস) নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, এই হামলায় নিহত দুই নাগা ব্যক্তি—৪৮ বছর বয়সি দিবামপৌ রিংকাংমাই এবং ৫২ বছর বয়সি অজিনবৌ রিংকাংমাইয়ের দেহ ময়নাতদন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিল 'জয়েন্ট ট্রাইবস কাউন্সিল' (JTC-Manipur)। গত ১২ অক্টোবর তাঁদের দেহ জেএনআইএমএস-এর মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। কাউন্সিলের দাবি ছিল, অবিলম্বে নিখোঁজ মাথা উদ্ধার করতে হবে এবং তাদের বিবৃতিতে উল্লেখিত তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি—থাংবোই কিপগেন, ডেভিড হাংসিং ও ড. সাইলেন হাওকিপ-কে গ্রেফতার করতে হবে। তবে ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনও নিরপেক্ষ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জেটিসি-র আরও অভিযোগ, এই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা 'সাসপেনশন অব অপারেশনস' (SoO) চুক্তির আড়ালে কার্যত কোনও শাস্তির ভয় না পেয়েই এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাবি না মানলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার এই হামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন নাগা সংগঠন। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসনিক মহল।