৪০৫ প্রতিরক্ষা পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা মোদী সরকারের! তালিকায় যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধজাহাজ, ট্যাঙ্কের যন্ত্রাংশ
কেন্দ্রের দাবি, এই পদক্ষেপে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রায় ৩,০৭০ কোটি টাকার ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এর ফলে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে দেশে তৈরি সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়বে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ করল ভারত। মঙ্গলবার ৪০৫টি প্রতিরক্ষা পণ্যে পর্যায়ক্রমে আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধজাহাজ, ট্যাঙ্ক, ইনফ্যান্ট্রি কমব্যাট ভেহিকল এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও স্পেয়ার।

কেন্দ্রের দাবি, এই পদক্ষেপে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রায় ৩,০৭০ কোটি টাকার ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এর ফলে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে দেশে তৈরি সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়বে। নতুন তালিকাটি ‘ষষ্ঠ পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’-এর অংশ। প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
তালিকায় থাকা পণ্যের পরিধি বেশ বড়। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, সু-৩০ এমকেআই, লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট এবং এএল-৩১এফপি ইঞ্জিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। স্থলসেনার ব্যবহৃত টি-৭২, টি-৯০ এবং বিএমপি-II-এর মতো সাঁজোয়া প্ল্যাটফর্মের যন্ত্রাংশও এই তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানও আমদানি নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামেও এবার জোর দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে রাডার, সোনার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতার অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গোলাবারুদের মতো সামগ্রী।
কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ৪০৫টি পণ্যের প্রতিটির দেশীয় উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কোনও পণ্যের দেশীয় প্রযুক্তি সফল ভাবে তৈরি হলে তা এরপর ভারতীয় শিল্প সংস্থার কাছ থেকেই কেনা হবে।
ভারতের ‘ইন্ডিজেনাইজেশন’ বা দেশীয়করণ নীতিতে মূলত দু’টি দিক রয়েছে। প্রথমটি হল সম্পূর্ণ সামরিক প্ল্যাটফর্মে আমদানি নির্ভরতা কমানো। এর আওতায় ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার এবং আর্টিলারি গান-সহ বিভিন্ন বড় অস্ত্র ব্যবস্থাকে রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিকটি হল ছোট যন্ত্রাংশ ও উপাদান দেশেই তৈরি করা। এর মধ্যে রয়েছে লাইন রিপ্লেসেবল ইউনিট, সাব-সিস্টেম, স্পেয়ার, কম্পোনেন্ট এবং কাঁচামাল। মঙ্গলবারের ৪০৫টি পণ্যের তালিকা এই দ্বিতীয় উদ্যোগের অংশ।
নতুন তালিকায় ৩৮৯টি পণ্য প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি আমদানি করত। বাকি ১৬টি পণ্য আমদানি করত ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। এর আগে প্রকাশিত পাঁচটি তালিকায় মোট ৫,০১২টি পণ্য রাখা হয়েছিল। এর অনেকগুলিই ইতিমধ্যে দেশীয় ভাবে তৈরি শুরু হয়েছে।
২০২০ সাল থেকে সম্পূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্মের উপরও ধাপে ধাপে আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যে এই ধরনের ৫০৯টি বড় প্রতিরক্ষা সামগ্রী আমদানি নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। এই তালিকায় রয়েছে লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট, ডেস্ট্রয়ার, আর্টিলারি গান, ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার, লং-রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল, বেসিক ট্রেনার এয়ারক্র্যাফ্ট এবং মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়াতে গত কয়েক বছরে আরও একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। স্থানীয় অস্ত্র কেনার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের সীমা ৪৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৪ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যবসা সহজ করার জন্যও বিভিন্ন নিয়ম বদলানো হয়েছে।
তবে এখনও ভারতের বিদেশি অস্ত্রের উপর নির্ভরতা পুরোপুরি কাটেনি। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা SIPRI-এর মার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬-২০ এবং ২০২১-২৫ সময়কালে ভারতের অস্ত্র আমদানি ৪ শতাংশ কমেছে। তবুও বিশ্বে সামরিক সরঞ্জামের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ভারত। বিশ্বব্যাপী অস্ত্র আমদানির ৮.২ শতাংশই ভারতের দখলে।
কেন্দ্রের লক্ষ্য, ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ লক্ষ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া। একই সময়ের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রফতানির লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। ৪০৫টি পণ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা সেই লক্ষ্য পূরণের পথেই আরও একটি বড় পদক্ষেপ। এর ফলে দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য নতুন বাজার তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিনিয়োগ, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনও বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


