Modi on Gen Z: CJP বিক্ষোভের পর প্রথম সভায় মোদী, ‘প্রশ্নের অধিকার’-এর পাশাপাশি মনে করালেন দায়িত্বের কথা

এর আগে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। তবে শনিবার দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হয়ে নতুন প্রজন্মের সামনে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী।

Published on: Aug 8, 2026, 13:51:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পর প্রথম বার জনসমক্ষে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। তবে শনিবার দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হয়ে নতুন প্রজন্মের সামনে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় তিন হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে সামনে রেখে তাঁর বার্তা, প্রশ্ন করার অধিকার যেমন সকলের রয়েছে, তেমনই রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বও রয়েছে।

দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রজীবন এবং কর্মজীবনের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। (@BJP4India)
দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রজীবন এবং কর্মজীবনের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। (@BJP4India)

দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রজীবন এবং কর্মজীবনের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে জীবন যে পরীক্ষা নেয়, তার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে প্রশ্নপত্র বা নির্দিষ্ট উত্তর থাকে না। নিজের কাছেই প্রশ্ন করতে হয় এবং সেই প্রশ্নের উত্তরও নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়।

মোদীর কথায়, জীবনের লড়াইয়ে সবকিছুই ‘আউট অফ সিলেবাস’। তাই যে ব্যক্তি প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করবে, শেষ পর্যন্ত সাফল্য তারই হবে। প্রশ্ন করার অধিকার সকলের রয়েছে বলেও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে দেশের প্রতি নাগরিকের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের প্রজন্মের লড়াইয়ের ফলেই দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। আর বর্তমান প্রজন্মের সামনে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের যুবসমাজ এগিয়ে গেলে ভারতও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, দেশের উন্নয়নে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, যুবসমাজের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে এবং দেশের উন্নয়নে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। নিট-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ এবং প্রতিবাদের পর থেকেই জেন-জির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে আইআইটি দিল্লির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করার অধিকার এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব—দুই বিষয়কে পাশাপাশি তুলে ধরাকে সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

এদিন শুধু বক্তব্য রাখাই নয়, প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকেই অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটিং সিস্টেম ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তিন হাজারেরও বেশি স্নাতক স্তরের পড়ুয়া এবং প্রায় ৫৮৭ জন পিএইচডি গবেষক ডিগ্রি ও শংসাপত্র গ্রহণ করেন। কৃতী পড়ুয়াদের হাতে ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’, ‘ডিরেক্টরস গোল্ড মেডেল’, ‘শঙ্করদয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল’ এবং ‘পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল’-এর মতো সম্মানও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে ‘পরম প্রজ্ঞা’ রয়েছে আইআইটি দিল্লির সোনপত ক্যাম্পাসে। বৈজ্ঞানিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রের জটিল সমস্যা সমাধানে এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং ব্যবস্থা গবেষক, শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষণার পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে আইআইটি দিল্লিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

ফলে শনিবারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা ও জাতীয় দায়িত্বের বার্তা দিলেন মোদী, অন্যদিকে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুললেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি যোগাযোগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More