Modi on Iran War: ইরান যুদ্ধের আবহে কংগ্রেসের তোপ, এরই মাঝে মোদী স্পষ্ট করল তিনি কার পাশে আছেন

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সেই দেশের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান মোদী। এরই সঙ্গে মোদী বলেন, 'আমরা উত্তেজনা প্রশমন, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।'

Published on: Mar 02, 2026 9:17 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এই কথোপকথনের তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, 'সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত এবং এই হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই আমরা।' তিনি আরও বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে পূর্ণ সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সেই দেশের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান মোদী। এরই সঙ্গে মোদী বলেন, 'আমরা উত্তেজনা প্রশমন, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।'

ইরান যুদ্ধের আবহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলেন মোদী (PMO)
ইরান যুদ্ধের আবহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলেন মোদী (PMO)

উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের ওপর ইজরায়েলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মোদী সরকারকে তোপ দেগেছিল বিরোধীরা। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন ইরানের ওপর হামলার বিরোধ করেনি ভারত সরকার। তবে ঘরোয়া রাজনীতির সেই বিরোধের মাঝেও মোদী সরকার স্পষ্ট করে দিল, তারা আসলে কাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার পরে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ইজরায়েলের ওপরে ইরানের হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদী। এর আগে মোদীর ইজরায়েল সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। জয়রাম রমেশ বলেন, ইজরায়েল এবং আমেরিকা যে ইরানে হামলা করবে, তা স্পষ্ট ছিল। তাও মোদী ইজরায়েলে গিয়েছেন। এই আবহে মোদীর ইজরায়েল সফরকে 'লজ্জাজনক' আখ্যা দেন জয়রাম রমেশ।

প্রসঙ্গত, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সিসিএস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বৈঠকে শীর্ষ আধিকারিকরা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারতের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাস, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। সূত্রের খবর, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে তা মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেই বৈঠকে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বহু ভারতীয় দুবাই এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।

এদিকে ইরানিরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিকে ভারতের তেল সরবরাহ শৃঙ্খলও ব্যাহত হতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন এবং ৪০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক ইজরায়েলে বসবাস করেন। পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অঞ্চলে ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নাগরিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হেল্পলাইনগুলি সক্রিয় করা হয়েছে।