Modi to Meloni: বিশ্বযুদ্ধের পরে ইতালির সবচেয়ে বেশি সময়ের প্রধানমন্ত্রী হলেন মেলোনি, ‘বন্ধুকে’ খোলা চিঠি মোদীর
মেলোনি ২০২২ সালের অক্টোবরে ইতালির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন। তার পর থেকে টানা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। এ বার তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ১,৪১৩ দিনে পৌঁছেছে। এর ফলে আগের রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেলোনি।
নতুন নজির গড়লেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। এই সাফল্যে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে মেলোনিকে উদ্দেশ করে খোলা চিঠিও লিখেছেন তিনি।

মেলোনি ২০২২ সালের অক্টোবরে ইতালির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন। তার পর থেকে টানা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। এ বার তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ১,৪১৩ দিনে পৌঁছেছে। এর ফলে আগের রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেলোনি।
বেরলুসকোনিকে পিছনে ফেললেন মেলোনি
এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড ছিল সিলভিও বেরলুসকোনির নামে। দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি ১,৪১২ দিন দায়িত্বে ছিলেন। মেলোনি সেই রেকর্ড এক দিন বাড়িয়ে ১,৪১৩ দিনে পৌঁছে গিয়েছেন।
ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে বহু বার সরকার বদলেছে। এই সময়ে মোট ৬৮টি সরকার গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক স্থিরতা ইতালিতে খুব একটা দেখা যায়নি। সেই পরিস্থিতিতে একই প্রধানমন্ত্রী এত দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা বিরল ঘটনা।
মেলোনিকে শুভেচ্ছা মোদীর
ইতালির প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মোদী। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি মেলোনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মোদী লিখেছেন, তাঁর বন্ধু জর্জিয়া মেলোনিকে যুদ্ধোত্তর ইতালির দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। মোদীর মতে, এই রেকর্ড থেকেই বোঝা যায় ইতালির মানুষ মেলোনির উপর কতটা আস্থা রাখেন।
ভারত-ইতালি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও মেলোনির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মোদী। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও ইতালির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মোদীর নিজেরও রেকর্ড
মেলোনির এই রেকর্ডের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রেও। চলতি বছরের জুনে নির্বাচিত হয়ে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়েন মোদী। তবে ভারতের ইতিহাসে মোট সবচেয়ে বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড এখনও জওহরলাল নেহরুর দখলে।
১৯৫২ সালের ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন নেহরু। ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অর্থাৎ, টানা ৪,৩৯৮ দিন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নেহরু। অন্য দিকে, ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন মোদী। তার পর থেকে টানা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। নেহরুর রেকর্ড পেরিয়ে মোদীর একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ৪,৩৯৯ দিনে পৌঁছেছে।
ভারত-ইতালি সম্পর্কেও নতুন গুরুত্ব
মোদী ও মেলোনির মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। দুই নেতার একাধিক বৈঠক হয়েছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে ভারত ও ইতালির সম্পর্কও ধীরে ধীরে গভীর হয়েছে। মেলোনির দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থায়িত্ব সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এক দিকে ভারতে একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের নতুন রেকর্ড মোদীর। অন্য দিকে যুদ্ধোত্তর ইতালিতে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড মেলোনির। আর এই দুই নেতার বন্ধুত্ব এখন ভারত-ইতালি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


