Modi's Australia Tour: ইন্দো-প্যাসিফিকে চিনের প্রভাব ঠেকাতে হাতে হাত, অস্ট্রেলিয়া সফরে মোদী, আলোচনা হতে পারে কোয়াড নিয়ে

এর আগে ২০১৪ এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিলেন মোদী। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক বিষয়ে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

Published on: Jul 8, 2026, 08:42:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তিন দেশ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার অস্ট্রেলিয়া পৌঁছচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে ২০১৪ এবং ২০২৩ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিলেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক বিষয়ে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

এর আগে ২০১৪ এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিলেন মোদী। (Narendra Modi Photo Gallery)
এর আগে ২০১৪ এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিলেন মোদী। (Narendra Modi Photo Gallery)

সোমবার সফরের প্রথম পর্যায়ে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই তিন দেশ সফরের তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়া এখন জাপানের মতোই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশের অবস্থান অনেকটাই এক। একই সঙ্গে ভারতীয় পরিকাঠামো উন্নয়নেও অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই সফরে কোয়াড জোট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোটের শীর্ষ সম্মেলন দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সফরের বৈঠকের পর কোয়াড সম্মেলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন শহরে আটটি অস্ট্রেলীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নেও অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ ক্রমশ বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পেনশন ও অবকাঠামো তহবিল ইতিমধ্যেই ভারতের সড়ক, লজিস্টিক, সবুজ জ্বালানি এবং নগর পরিকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। আগামী দিনে এই বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া ডিজিটাল অবকাঠামো ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সংস্থা এয়ারট্রাঙ্ক। ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রবি খুদা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেন। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য ৫ গিগাওয়াটেরও বেশি ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া সফরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় আইআইএম ব্যাঙ্গালোরের বিদেশি ক্যাম্পাস স্থাপনের চুক্তিও রয়েছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ভারত ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস মিসাইল এবং অ্যাস্ট্রা মিসাইল সরবরাহে সম্মতি জানিয়েছে। একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই তিন দেশ সফরের মাধ্যমে ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই মজবুত করবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More