'সাদা জার্সি ছাড়ছি', চোট জর্জরিত কেরিয়ার, টেস্ট ক্রিকেটকে চিরবিদায় মহম্মদ শামির!

শুক্রবার রাতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন মহম্মদ শামি।

Published on: Nov 7, 2026, 00:03:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন। শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তা ও আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা পেসার। ২০২৩ সালে ওভাল-এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনালেই ভারতের হয়ে শেষবার টেস্ট ক্রিকেটের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

'সাদা জার্সি ছাড়ছি', চোট জর্জরিত কেরিয়ার, টেস্ট ক্রিকেটকে চিরবিদায় মহম্মদ শামির!
'সাদা জার্সি ছাড়ছি', চোট জর্জরিত কেরিয়ার, টেস্ট ক্রিকেটকে চিরবিদায় মহম্মদ শামির!

‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায়’— শামির আবেগঘন বার্তা:

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের স্মৃতির কথা তুলে ধরে শামি লেখেন, ‘আমি সাদা পোশাককে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে কখনো নয়। প্রথমবার যখন ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখন একটাই স্বপ্ন ছিল— দেশের জন্য কিছু করা। তারপর থেকে প্রতিটা উইকেট, লড়াই, চোট এবং ফিরে আসা আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট শুধু একটি ফরম্যাট ছিল না, এটি আমার জীবনের অত্যন্ত বিশেষ একটি অংশ ছিল। আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি সাথে নিয়ে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করছি।’

তিনি বিসিসিআই (BCCI), ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB), তাঁর সতীর্থ, কোচ এবং কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে তাঁদের সমর্থনের জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

লাল বলের ক্রিকেটে শামির রাজকীয় রেকর্ড:

আধুনিক ভারতীয় পেস বোলিংয়ের স্বর্ণযুগের কারিগর হিসেবে শামি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ভারতের হয়ে মোট ৬৪টি টেস্ট খেলে ২২৯টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। টেস্টে ২০০-র বেশি উইকেট নেওয়া পঞ্চম ভারতীয় পেসার তিনি।

২০১৩ সালে ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকেই ৯ উইকেট নিয়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন শামী। তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ছিল ২০১৮ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫৬ রানে ৬ উইকেট।

ব্যাটেও অবদান: বোলিংয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে ব্যাট হাতেও কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। ২০২১ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসটি ভারতকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিল।

ফিটনেস বিতর্ক ও জাতীয় দল থেকে উপেক্ষা:

সাম্প্রতিক সময়ে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে বল হাতে দুরন্ত পারফর্ম করা সত্ত্বেও জাতীয় দলের নির্বাচকদের খাতায় বারবার উপেক্ষিত হয়েছেন শামি। ভারতের হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।

প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকরের সঙ্গে ফিটনেস ইস্যুতে শামির প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিল। আগারকর তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুললে শামি পাল্টা সাফ জানিয়েছিলেন— ফিট না থাকলে তিনি বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে নামতে পারতেন না। সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির জন্য বাংলার ১৯ জনের দলেও জায়গা পেয়েছেন এই বর্ষীয়ান পেসার।

লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ভারতের হয়ে খেলার গর্ব সারাজীবন হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে বলে জানান শামি।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More