Muharram Poison Capsule: মহরমের মিছিলে বিষ ক্যাপসুল! পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেল হাজারো প্রাণ, গ্রেফতার যুবক

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের কাছে উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলে ছিল জিঙ্ক ফসফাইড, যা ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিক। সময়মতো পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় সম্ভাব্য এক ভয়াবহ গণবিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

Published on: Jun 28, 2026, 11:16:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মুম্বইয়ে মহরমের শোকমিছিলে বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। শুক্রবার বাইকুল্লা এলাকার মহরমের মিছিলে অংশগ্রহণকারী মানুষের মধ্যে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করার অভিযোগে ফয়্যাজ প্রেমজি নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের কাছে উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলে ছিল জিঙ্ক ফসফাইড, যা ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিক। সময়মতো পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় সম্ভাব্য এক ভয়াবহ গণবিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

রে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে আশুরার শোভাযাত্রার সময় অভিযুক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ক্যাপসুল বিতরণ করছিল।
রে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে আশুরার শোভাযাত্রার সময় অভিযুক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ক্যাপসুল বিতরণ করছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে আশুরার শোভাযাত্রার সময় অভিযুক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ক্যাপসুল বিতরণ করছিল। সে দাবি করেছিল, এগুলি ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ। অনেকেই সেই কথা বিশ্বাস করে ক্যাপসুল খেয়ে ফেলেন। এরপর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে পেটব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সকলেই বিপদমুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তিন মহিলা স্বেচ্ছাসেবিকার তৎপরতায় রক্ষা পেল হাজারো মানুষ

এই ঘটনার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে তিন মহিলা স্বেচ্ছাসেবিকার। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম লক্ষ্য করেন, অভিযুক্ত সন্দেহজনকভাবে ক্যাপসুল বিলি করছে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযুক্ত ক্যাপসুলকে 'ইমিউনিটি বুস্টার' বলে দাবি করলেও স্বেচ্ছাসেবিকারা একটি ক্যাপসুল খুলে দেখেন, তার ভিতরে অচেনা গুঁড়ো জাতীয় পদার্থ রয়েছে। এরপরই তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।

একই সঙ্গে লাউডস্পিকারে ঘোষণা করে মানুষকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে এবং তার কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ ক্যাপসুল বাজেয়াপ্ত করে।

প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাণ নেওয়ার পরিকল্পনা!

তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করেছে। এছাড়া সে ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডার করেছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। মুম্বই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জয়ন্ত মীনা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলগুলিতে জিঙ্ক ফসফাইড মেশানো ছিল। এই ধরনের ওষুধ বিতরণের কোনও অনুমতিও অভিযুক্তের ছিল না। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য ক্যাপসুলগুলি পাঠানো হয়েছে। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত নাকি স্বীকার করেছে, তার উদ্দেশ্য ছিল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা। যদিও এই স্বীকারোক্তির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি, তবু পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

সন্ত্রাসের যোগ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা

অভিযুক্ত ফয়্যাজ প্রেমজি একজন বিবিএ স্নাতক। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে অতীতে ইরান ও ইরাক সফর করেছে। ফলে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠন বা আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মুম্বই পুলিশ। সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ডদেরও খোঁজ চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১২৩ ধারায় বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে ক্ষতি করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত তাকে দু'দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে।

কতটা বিপজ্জনক জিঙ্ক ফসফাইড?

জিঙ্ক ফসফাইড একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক, যা মূলত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরে প্রবেশ করার পর পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাস হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই বিষের কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনে ভেন্টিলেটর সাপোর্টই একমাত্র ভরসা।

মহরমের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন নাশকতার অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য এক গণহত্যার ছক ভেস্তে যাওয়ায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More