Building Collapse: ধ্বংসস্তূপ থেকে আর্তনাদ! ‘পেয়িংগেস্ট’ হিসেবে থাকতেন বহু পড়ুয়া, দিল্লিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সেই বহুতল
Delhi Building Collapse: পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিল্ডিংটিতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে বহু পড়ুয়া থাকতেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ বিল্ডিং ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়ার সময় ওই বিল্ডিংয়ে কমপক্ষে ৫০ জন পড়ুয়া ছিলেন।
Delhi Building Collapse: রবিবার দুপুরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বহুতল (Building Collapse)। পেয়িং গেস্ট হিসেবে বহু পড়ুয়াই ওই বিল্ডিংয়ে থাকতেন। ধসে পড়া বহুতলটির ধ্বংসস্তূপে অনেকেই আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ ও দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া পাঁচতলা ভবনটি একটি পেয়িং গেস্ট (PG) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হত। নিকটবর্তী একাধিক কলেজের কারণে সত্য নিকেতন এলাকাটি মূলত ছাত্র-ছাত্রী প্রধান এলাকা বলেই পরিচিত। স্থানীয় বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবাসনটিতে বহু শিক্ষার্থী বসবাস করতেন। ফলে দুর্ঘটনার সময় বেশ কয়েকজন ছাত্র ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান বলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে (Students trapped)। এখনও পর্যন্ত ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজন শিক্ষার্থীকে এইমস-এ ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু উদ্ধারকারীরা এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি, ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিল্ডিংটিতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে বহু পড়ুয়া থাকতেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ বিল্ডিং ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়ার সময় ওই বিল্ডিংয়ে কমপক্ষে ৫০ জন পড়ুয়া ছিলেন। কারণ রবিবারের অনেকেই ছুটির জন্য বাড়িতে রয়েছেন। দুর্ঘটনার সময়ের কিছু ভয়াবহ ভিডিও চিত্রে দেখা গিয়েছে, কংক্রিটের বিরাট স্ল্যাবের নিচে এক ব্যক্তি আটকে রয়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা তাঁকে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভিতরে আরও কতজন আটকে রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদম তল্লাশি চলছে। জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ এই দুর্ঘটনার খবর পায় দিল্লি দমকলবাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), দিল্লি পুলিশ, পুরনিগম (এমসিডি) এবং সিভিল ডিফেন্সের যৌথ দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
হুড়মুড়িয়ে বিল্ডিং ধসে পড়ার পর প্রত্যক্ষদর্শীরাই জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই আর্তনাদ শোনা গিয়েছে শিক্ষার্থীদের। আশপাশে একাধিক কলেজ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন ওই বিল্ডিংয়ে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কী কারণে বহুতলটি হঠাৎ ভেঙে পড়ল - পরিকাঠামোগত ত্রুটি নাকি বেআইনি নির্মাণের জেরে এই ধস, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরকে পুরমের বিজেপি বিধায়ক অনিল কুমার শর্মা এই দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। দূর-দূরান্ত থেকে পড়তে আসা আমাদের ছেলেমেয়েরা পিজি-তে থাকছিল, সেই ভবনটিই ভেঙে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুরনিগম ও পুলিশ দ্রুত দু'জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।' দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এক্স হ্যান্ডেলে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তিনি জানান, 'ডিডিএমএ, এনডিআরএফ, দমকল, পুলিশ, এমসিডি ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ দল উদ্ধারকাজে নেমেছে। সতর্কতা হিসেবে পাশ্ববর্তী ভবনটিকে খালি করে দেওয়া হয়েছে। আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।' রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) এবং আইসা-র (AISA) সদস্যরাও উদ্ধারকাজে হাত বাড়াতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
E-Paper

