Guwahati Student Death: 'মা, ওরা আমার বুকে লাথি..,' গুয়াহাটির হোমস্টেতে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু, বিস্ফোরক বাবা, উত্তপ্ত অসম
Guwahati Student Death: ওই ছাত্রী ঘটনার সময়ে একটি হোমস্টেতে ছিলেন। ঘটনার তদন্তে পুলিশ হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছাত্রীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে।
Guwahati Student Death: গুয়াহাটি (Guwahati) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত অসম। শনিবার ভোরে গড়াল এলাকার একটি হোমস্টে থেকে ২২ বছর বয়সি ওই ছাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তাঁর বন্ধু আশিক আলি নামে এক ২৬ বছর বয়সি যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই আবহে মেয়ের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বাবা।

মৃত ছাত্রীর বাবার দাবি, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টায় তাঁর মেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। পরিবারকে ওই ছাত্রী জানান, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেতে যাচ্ছেন। পরে তিনি জানান, এক বন্ধুর সঙ্গে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে রাত কাটাবেন। পরিবারের অভিযোগ, রাত প্রায় ২টো নাগাদ ওই ছাত্রী তাঁর মা’কে ফোন করে বলেন, 'মা, ওরা আমার বুকে লাথি মারছে। আমি শ্বাস নিতে পারছি না।' এর পরে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। পরিবারের তরফ থেকে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি ওই ছাত্রীর। মৃত তরুণীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তিন যুবক অচেতন অবস্থায় তরুণীকে গড়ল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ছাত্রী ঘটনার সময়ে একটি হোমস্টেতে ছিলেন। ঘটনার তদন্তে পুলিশ হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছাত্রীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়না তদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়। এদিকে পুলিশি জেরায় আশিক আলি দাবি করেছেন, তরুণী সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিলেন। ডিসিপি বলিন দেউড়ি জানান, ময়না তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই সেখানে ওই হোমস্টেতে অতিথিদের রাখা হত। পুলিশের দাবি, গত এক মাসে ওই ছাত্রী এবং আশিক ওই হোমস্টেতে একাধিক বার গিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হোমস্টেটি ওই দু'জনের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্রও নেয়নি। ইতিমধ্যেই হোমস্টের মালিক, কেয়ারটেকার এবং অন্যান্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বিপুল বাইলুং নামে এক কর্মী জানান, ওই ছাত্রী এবং আশিক ১০ নম্বর রুমে ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁরা খাবারও অর্ডার করেছিলেন। তাঁর দাবি, কর্মীরা পরে রাত আড়াইটা থেকে তিনটের মধ্যে একজন পুরুষকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে ও কান্নার শব্দ শুনতে পান। তাঁর কথায়, 'আমরা তিনজন তাদের রুমে গিয়ে দেখি, মেয়েটি মাটিতে শুয়ে আছে এবং ছেলেটি তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।'
অন্যদিকে, মৃতের বাবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে তাঁদের জানায়নি যে আশিক আলির সঙ্গে একটি হোমস্টেতে থাকার পরিকল্পনা করেছিল। মেয়ে তাঁদের বলেছিল যে সে বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকবে। তিনি বলেন, 'দুদিন আগেই ও বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেতে যাবে এবং এক বন্ধুর হোস্টেলে রাত কাটাবে বলে ২,০০০ টাকা নিয়েছিল।' এই ঘটনার প্রতিবাদে আজারা এলাকার কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। তরুণীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। পাশাপাশি, ধৃত যুবককে জেরার পাশাপাশি দু জনের বন্ধু এবং পরিচিতদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের পর ওই ছাত্রীর দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে শনিবার সন্ধ্যায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
E-Paper

