Nahid Islam on CJP: CJP-র আন্দোলনের পাশে বাংলাদেশে হাসিনা বিরোধী নৈরাজ্যের মুখ নাহিদ ইসলাম! শার্জিল-উমরের হয়েও সরব
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই আন্দোলনকারীদের আটক করে পুলিশ। ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রবিবারও আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। এ বার ভারতের এক রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা নাহিদ ইসলাম। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে ভারতের তরুণদের পাশে রয়েছে বাংলাদেশও। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে সিজেপি। সেই আন্দোলন ঘিরে পুলিশি ধরপাকড়ের সমালোচনা করে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন নাহিদ। একই সঙ্গে ভারতের কাছে একাধিক দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই অবস্থান ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে।

দিল্লির আন্দোলনে বাংলাদেশের নেতার সমর্থন
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই আন্দোলনকারীদের আটক করে পুলিশ। ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রবিবারও আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
এই পরিস্থিতিতে সিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে নাহিদ লেখেন, ভারতের তরুণ-তরুণীরা নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনের জবাবদিহি চাইছেন। সেই দাবিকে সমর্থন করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আন্দোলনের সংগঠক ও সাংবাদিকদেরও আটক করা হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ এবং যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ জারির ঘটনাকেও মানুষের মৌলিক অধিকারের উপর আঘাত বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। নাহিদের বক্তব্য, ব্যারিকেড তৈরি করে কিংবা সংবাদমাধ্যমের কাজের পথে বাধা দিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর এড়ানো যায় না।
বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতার কথা
নিজেদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই আন্দোলন দমনের সময় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
রাষ্ট্রসংঘের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলন এবং তা দমনের পর্বে সর্বোচ্চ ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন নাহিদ। বাংলাদেশের আন্দোলনের সময় ভারতের ছাত্রছাত্রী, লেখক এবং স্বাধীন মতপ্রকাশে বিশ্বাসী মানুষেরা যে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তাঁদের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের তরুণদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে একে অপরের পাশে থাকা উচিত। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকেও ভারতের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তাঁরা।
উমর খালিদ, শার্জিল ইমামদের মুক্তির দাবিও
শুধু সিজেপির নেতাদের নয়, ভারতের বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বন্দিদের মুক্তির দাবিও তুলেছেন নাহিদ। শার্জিল ইমাম এবং উমর খালিদের নাম উল্লেখ করে তিনি তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বন্দি হওয়া ব্যক্তিরাও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নাহিদের দাবি, শান্তিপূর্ণ জমায়েত ও আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ছাড়াই কাজ করার পরিবেশ তৈরির কথাও বলেছেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা
নাহিদ তাঁর পোস্টে ধর্মীয় বিভাজন, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ বা শ্রেণির ভিত্তিতে মানুষের অধিকার নির্ধারণ করা উচিত নয়। ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশেই গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিবেশ থাকা প্রয়োজন।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, জলবণ্টন, পরিবেশ রক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো বিষয়ও দুই দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, কোনও দেশই অন্য দেশের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। সব মিলিয়ে, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সমর্থন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মতো কোনও আন্দোলনের পরিকল্পনা ভারতে চলছে, তার প্রমাণ হিসাবে দেখা যায় না। বরং তাঁর পোস্টে ভারতের প্রতিবাদীদের প্রতি রাজনৈতিক সংহতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


