NCP Unification Buzz: ‘সুপ্রিয়া এবার তৈরি, দেশ সামলাব আমরা’! শরদ পাওয়ারকে ফোন মোদীর
পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভিত্থল মানিয়ারের দাবি, ফোনে মোদী শরদ পাওয়ারকে বলেছেন, ‘সুপ্রিয়া এবার তৈরি। সুপ্রিয়া আর আমরা দেশ সামলে নেব। আপনি এখন বিশ্রাম নিন।’ আর এই একটি মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের অঙ্ক কষতে শুরু করেছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল।
এনসিপি-র দুই শিবির কি এবার এক হতে চলেছে? বিরোধী INDIA জোট ছেড়ে বিজেপির হাত ধরতে চলেছেন শরদ পাওয়ার? আর তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে কি এবার নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে চলেছেন? মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই জল্পনাগুলিকে আরও উসকে দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অসুস্থ শরদ পাওয়ারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া সুলের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী। পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভিত্থল মানিয়ারের দাবি, ফোনে মোদী শরদ পাওয়ারকে বলেছেন, ‘সুপ্রিয়া এবার তৈরি। সুপ্রিয়া আর আমরা দেশ সামলে নেব। আপনি এখন বিশ্রাম নিন।’ আর এই একটি মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের অঙ্ক কষতে শুরু করেছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, ৪ নভেম্বর। গত ২ নভেম্বর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পুনের রুবি হল ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন ৮৫ বছরের শরদ পাওয়ার। কাশি এবং বুকের যন্ত্রণার সমস্যায় তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তাঁকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভিত্থল মানিয়ার সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে শরদ পাওয়ারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।
মানিয়ারের দাবি, ফোনে মোদী বলেন, শরদ পাওয়ারের এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত। কারণ, সুপ্রিয়া সুলে এবং তাঁরা মিলে দেশের দায়িত্ব সামলাতে প্রস্তুত। জবাবে শরদ পাওয়ার বলেন, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং দেশের দায়িত্ব সামলানোর জন্য যখন সকলে রয়েছেন, তখন তাঁর কোনও চিন্তা নেই। যদিও এই ফোনালাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বা শরদ পাওয়ার নিজেরা প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেননি। ফলে পুরো কথোপকথনের তথ্য পাওয়ারের সহযোগীর বক্তব্যের উপর নির্ভরশীল।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য কি নিছকই সৌজন্য, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা? কারণ, বেশ কয়েক মাস ধরেই শরদ পাওয়ারের এনসিপি (SP) এবং প্রয়াত অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র মধ্যে ফের এক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৩ সালে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্রোহ করে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছিলেন তাঁর ভাইপো অজিত পাওয়ার। পরে নির্বাচন কমিশন মূল এনসিপি-র নাম ও প্রতীক অজিত গোষ্ঠীকে দেওয়ায় শরদ পাওয়ারের শিবিরকে আলাদা পরিচয়ে পথ চলতে হয়।
কিন্তু ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হন এবং এনসিপি-র দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন। এরপর থেকেই দুই গোষ্ঠীর পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে গত রবিবার অজিত পাওয়ারের শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই এনসিপি গোষ্ঠীর সংযুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল বলে খবর। তবে সোমবার দলের কোর কমিটির বৈঠকের পর এনসিপি-র মহারাষ্ট্র সভাপতি সুনীল তটকরে স্পষ্ট জানান, শরদ পাওয়ারের গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্তির সম্ভাবনা আপাতত খারিজ করা হয়েছে। যদিও অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উঠেছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সুপ্রিয়া সুলে বর্তমানে বিরোধী INDIA জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ১ নভেম্বর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতে মোদীর মুখে সুপ্রিয়ার নাম এবং তাঁকে দেশের দায়িত্ব সামলানোর জন্য প্রস্তুত বলে উল্লেখ করা যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিয়ার মোদী মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
সব মিলিয়ে, শরদ পাওয়ারের অসুস্থতার খোঁজ নিতে গিয়ে মোদীর একটি মন্তব্যই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। এনসিপি-র দুই শিবিরের পুনর্মিলন, শরদ পাওয়ারের NDA-র কাছাকাছি আসা এবং সুপ্রিয়া সুলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন ভূমিকা—সব সম্ভাবনাই এখন আলোচনায়। তবে শেষ পর্যন্ত পাওয়ার পরিবার কোন রাজনৈতিক পথ বেছে নেয়, সেটাই দেখার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


