Modi in Indonesia: ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান মোদীকে, হতে পারে সাবাং বন্দর চুক্তি, ব্রহ্মোস নিয়ে আলোচনা
সোমবার তিন দেশের সফরের প্রথম পর্যায়ে জাকার্তায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর এই সফরের পরবর্তী গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধিই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফর শুরু হতেই বড় কূটনৈতিক সাফল্য পেল ভারত। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো প্রধানমন্ত্রী মোদীকে সে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বিনতাং আদিপুর্না অব দ্য রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া’ (Bintang Adipurna of the Republic of Indonesia) প্রদান করার ঘোষণা করেন। ইন্দোনেশিয়ার ঐক্য, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিতে অসাধারণ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই সম্মান দেওয়া হয়। মোদীর এই সম্মান প্রাপ্তিকে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার তিন দেশের সফরের প্রথম পর্যায়ে জাকার্তায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর এই সফরের পরবর্তী গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সে দেশের বিমানবাহিনীর এফ-১৬ এবং সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান তাঁকে এসকর্ট করে। জাকার্তায় পৌঁছলে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো নিজে চারজন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই অভ্যর্থনা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরেছে।
এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর যৌথভাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা। মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত এই বন্দর ভারতীয় নৌ-কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং গ্রেট নিকোবর বন্দর প্রকল্পের খুব কাছেই সাবাং বন্দরের অবস্থান। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারত মহাসাগরে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। জানা গিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আরও একটি ব্যাটারি কেনার পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে সেই সংখ্যা তিনটিতে পৌঁছতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। শুধু ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহই নয়, সেগুলির মোতায়েনেও ভারত প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
এছাড়াও ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র তৈরি অস্ত্রা বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল (BVRAAM) কেনার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ইন্দোনেশিয়ার সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানে সহজেই ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ইস্পাত, নিকেল এবং বিরল খনিজ চুম্বক উৎপাদনে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ভারত। বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলতে পারে এই সফর। ইন্দোনেশিয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) তৈরিতে ভারত সহযোগিতা করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী প্রযুক্তিতে ভারতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী জাকার্তা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও একটি বড় পদক্ষেপ। ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত হওয়া সেই সম্পর্কেরই প্রতীকী স্বীকৃতি বলে মনে করা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


