Modi @ 25: ‘আমরা অগ্নিসন্তান’, শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দের বাণী উদ্ধৃত করে ২৫ বছরে নয়া ভারতের ডাক মোদীর

মোদীর ভাষণে উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের পাশাপাশি ফিরে এল বাংলার দুই মনীষীর বাণী। স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহর্ষি শ্রী অরবিন্দকে স্মরণ করে মোদীর বার্তা, ভারতের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে দরকার অদম্য সাহস। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর মন্তব্য, “আমরা অগ্নিসন্তান।”

Published on: Oct 7, 2026, 12:03:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী—দীর্ঘ এই প্রশাসনিক যাত্রার মাইলফলকে বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন নরেন্দ্র মোদী। আর সেই ভাষণে উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের পাশাপাশি ফিরে এল বাংলার দুই মনীষীর বাণী। স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহর্ষি শ্রী অরবিন্দকে স্মরণ করে মোদীর বার্তা, ভারতের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে দরকার অদম্য সাহস। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর মন্তব্য, “আমরা অগ্নিসন্তান।”

মোদীর ভাষণে উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের পাশাপাশি ফিরে এল বাংলার দুই মনীষীর বাণী। (Narendra Modi Photo Gallery )
মোদীর ভাষণে উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের পাশাপাশি ফিরে এল বাংলার দুই মনীষীর বাণী। (Narendra Modi Photo Gallery )

গৌরবের ভারত ফিরিয়ে আনার ডাক

দিল্লির অনুষ্ঠানে নিজের ২৫ বছরের প্রশাসনিক সফরকে শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেননি মোদী। বরং ভারতের অতীত গৌরব এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যকে একই সূত্রে বেঁধেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এমন এক ভারতের কথা, যে এক সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। পরে পরাধীনতা, আক্রমণ, দুর্ভিক্ষ এবং বিভিন্ন ধাক্কায় দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারতীয়দের সাহস ও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায়নি—এটাই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।

এর পরেই স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী অরবিন্দের কথা টেনে মোদী বলেন, এক দিন গৌরবশালী ভারত আবার উঠে দাঁড়াবে—এই বিশ্বাস তাঁরা মানুষের মধ্যে তৈরি করেছিলেন। শ্রী অরবিন্দের ভাবনার সঙ্গে নিজের ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যকে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চান, আজকের প্রজন্মের সামনে শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, সভ্যতার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনারও দায়িত্ব রয়েছে।

‘উই উইল ডু ইট’, লক্ষ্য ২০৪৭

২৫ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার এই বিশেষ দিনে মোদীর ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাঁর স্লোগান, ‘উই উইল ডু ইট’। অর্থাৎ, বড় লক্ষ্য সামনে রেখে ভারতকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে চান তিনি। এই লক্ষ্য পূরণে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ করে বিশ্বের প্রথম তিন অর্থনীতির মধ্যে ভারতকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রাখেন মোদী। পাশাপাশি ‘ড্রাগমুক্ত ভারত’-এর কথাও বলেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতকে এমন জায়গায় পৌঁছতে হবে, যাতে গোটা বিশ্বে সেগুলির সঙ্গে ভারতের নাম উচ্চারিত হয়। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ভারতকে নেতৃত্বের জায়গায় দেখতে চান তিনি। অর্থাৎ তাঁর বার্তায় উন্নয়নের অর্থ শুধু জিডিপি বৃদ্ধি নয়; অর্থনীতি থেকে মানবসম্পদ, প্রযুক্তি থেকে সামাজিক উন্নয়ন—সবকিছুকেই একই যাত্রার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।

মন্দিরে পুজো, তার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ

বুধবার সকালে দিল্লির সরোজিনী নগরের শ্রীবিনায়ক মন্দিরে পুজো দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও দেশের উন্নতির জন্য প্রার্থনার কথা জানান। তার পরেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে উঠে আসে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সাফল্য ও দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ। ফলে দিনটির সূচনায় ধর্মীয় আবহ এবং পরে জাতীয় উন্নয়নের বার্তা—দুই দিকই পাশাপাশি দেখা যায়।

‘কর্মই’ মোদীর মূল মন্ত্র

২৫ বছরের যাত্রার মূল্যায়নে মোদীর বক্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘কর্ম’। এর আগে প্রশাসনের দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গে তিনি বার বার ‘সেবা’ এবং দায়িত্বের কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও তাঁর নেতৃত্বকে ‘নেশন ফার্স্ট’ ও ‘সিটিজেন ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। গুজরাতের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থেকে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতার কথাই তুলে ধরা হয়েছে।

২৫ বছর পেরিয়ে তাই মোদীর সামনে এখন লক্ষ্য আরও দূরের। অতীতের গৌরবের কথা মনে করিয়ে ভবিষ্যতের ভারতের স্বপ্ন দেখালেন প্রধানমন্ত্রী। আর শ্রী অরবিন্দ ও স্বামী বিবেকানন্দের বাণী সামনে রেখে তাঁর রাজনৈতিক বার্তা—আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না, লক্ষ্য ছোট করা যাবে না। ভারতকে ফের বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ সারিতে পৌঁছে দেওয়ার সেই দীর্ঘ দৌড়েই এখন ‘অগ্নিসন্তান’ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান মোদীর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More