Narendra Modi Saptadhara Explained: ২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত, মোদীর এই ‘সপ্তধারা’ কী?

মোদী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন শক্তির স্রোত তৈরি করতে হবে। প্রাচীন ভারতের ‘সপ্তসিন্ধু’র কথা মনে করিয়ে তিনি ‘সপ্তধারা’র কথা বলেন। তাঁর দাবি, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে এমন অনেক কাজ করতে হবে, যা গত পাঁচ থেকে সাত দশকেও করা সম্ভব হয়নি।

Published on: Aug 15, 2026, 10:16:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Narendra Modi Saptadhara Explained: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি ‘সপ্তধারা’ নামে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের কথা তুলে ধরেন।

মোদী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন শক্তির স্রোত তৈরি করতে হবে। (PTI)
মোদী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন শক্তির স্রোত তৈরি করতে হবে। (PTI)

মোদী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন শক্তির স্রোত তৈরি করতে হবে। প্রাচীন ভারতের ‘সপ্তসিন্ধু’র কথা মনে করিয়ে তিনি ‘সপ্তধারা’র কথা বলেন। তাঁর দাবি, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে এমন অনেক কাজ করতে হবে, যা গত পাঁচ থেকে সাত দশকেও করা সম্ভব হয়নি।

এই সাতটি ধারার প্রথমটি হল উৎপাদন শক্তি। মোদীর মতে, ভারতকে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে। যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে ডিজাইন এবং চূড়ান্ত পণ্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দেশে গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।

ভারতীয় পণ্যের মানও বাড়াতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। খরচ, গুণমান এবং উৎপাদনের পরিমাণ—তিন ক্ষেত্রেই বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে। ত্রুটিমুক্ত ও নিখুঁত উৎপাদনকে ভারতের পরিচয় করার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিতীয় ধারায় রয়েছে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম বড় খাদ্যশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানো এবং রফতানি বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের সার নিয়ে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ৩,০০০ টাকা দামের এক বস্তা ইউরিয়া ভারতীয় কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকায়। একইভাবে প্রায় ৫,০০০ টাকা দামের DAP দেওয়া হচ্ছে ১,৩৫০ টাকায়।

তৃতীয় ধারাটি হল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন। ভবিষ্যতের অর্থনীতি এবং উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রযুক্তিকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চতুর্থ ধারায় রয়েছে গতি শক্তি। এর লক্ষ্য দ্রুত এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষ যাতে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, তার জন্য বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরির কথা বলেন মোদী।

পঞ্চম ধারাটি প্রতিরক্ষা শক্তি ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা। দেশের নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি, সার, ওষুধ এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকে বিভিন্নভাবে চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই নিজের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

ষষ্ঠ ধারায় রয়েছে সবুজ অর্থনীতি এবং নীল অর্থনীতি। পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির প্রসারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের দীর্ঘ উপকূল এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সপ্তম ধারা হল ভারতের সফট পাওয়ার। বিশ্বজুড়ে ভারতের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য এতে রয়েছে। মোদী জানান, ২০১৪ সালের পর ভারত প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং MSME সংস্থাগুলিকে বিশ্ব বাজারে আরও বেশি পণ্য পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ভারতীয় পণ্যকে বিশ্ব বাজারে পৌঁছতে হবে। তবে তার জন্য আন্তর্জাতিক মান এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের দিকে নজর দিতে হবে।

এই সাত দফা পরিকল্পনাকে তিনি ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ বলেও উল্লেখ করেন। মোদীর মতে, ২০৪৭-এর লক্ষ্য পূরণ করতে ভারতের কাজের ধরন, চিন্তাভাবনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি বদলাতে হবে।

তিনি বলেন, পুরনো ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণের পদ্ধতিও বদলাতে হবে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছর তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবসমাজ, মহিলা, কৃষক এবং শ্রমিকদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর লক্ষ্য, এই সব শক্তিকে একত্র করে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More