Narendra Modi slams Opposition: করোনা থেকে যুদ্ধ, সংকটের সময় অনেকেই ভয় দেখিয়ে মজা পেয়েছিলেন, বিরোধীদের তোপ মোদীর

মহামারির প্রভাব কাটিয়ে দেশগুলি যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল, তখনই নতুন সমস্যা তৈরি হয়। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নতুন চাপ তৈরি করে। ভারতকেও তার প্রভাব সামলাতে হয়।

Published on: Aug 15, 2026, 09:25:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেশের গত এক দশকের নানা সংকটের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, করোনা মহামারি থেকে শুরু করে একাধিক যুদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতির আশঙ্কা, সবকিছুরই মুখোমুখি হয়েছে ভারত। তবে আগাম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কারণে দেশ এই কঠিন সময় পার করতে পেরেছে।

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেশের গত এক দশকের নানা সংকটের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (@narendramodi)
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেশের গত এক দশকের নানা সংকটের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (@narendramodi)

শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে মোদী বলেন, করোনা মহামারির সময় গোটা বিশ্ব অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর উপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছিল। ভারতও তার বাইরে ছিল না।

মহামারির প্রভাব কাটিয়ে দেশগুলি যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল, তখনই নতুন সমস্যা তৈরি হয়। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নতুন চাপ তৈরি করে। ভারতকেও তার প্রভাব সামলাতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে ভয় এবং আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য কয়েকজনকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সংকটের সময় কিছু মানুষ নানা আশঙ্কার কথা বলে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। এবং সেই মজা দেখিয়ে তারা মজা পেয়েছিলেন। তাঁদের পূর্বাভাসে দেশে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মোদীর বক্তব্য, এই সব সংকটের মধ্যেই ভারতের আগের ১০ থেকে ১২ বছরের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এখন কাজে লাগছে। কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রেও সরকারের নীতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেই সময় সরকারের কাজের মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিকের সুরক্ষা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। ‘নাগরিক দেবো ভব’ নীতিকে সামনে রেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মোদী বলেন, ভবিষ্যতে এমন বড় সংকট আসবে, তা আগে থেকে জানা ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তা মহামারির সময় খুব কাজে দেয়। একের পর এক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজ দেশের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিস্থিতি অনেকটাই শক্তিশালী। তিনি বিশেষভাবে গ্যাস, পেট্রল এবং ইউরিয়ার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সংকটের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ বজায় রাখা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি আত্মনির্ভরতার উপরও জোর দেন মোদী। তাঁর দাবি, ভারত এখন ক্রমশ নিজের শক্তির উপর দাঁড়াতে শিখছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অন্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, গত এক দশকের প্রস্তুতি শুধু একটি নির্দিষ্ট সংকটের জন্য ছিল না। বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা তৈরি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। সেই কারণেই একাধিক আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও ভারত নিজের প্রয়োজন সামলাতে পেরেছে বলে তাঁর দাবি।

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তাই শুধু দেশের সাফল্যের কথা নয়, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বড় সংকট কখনও আগাম জানিয়ে আসে না। তাই আগে থেকেই শক্ত ভিত তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। করোনা, যুদ্ধ এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মতো কঠিন সময়ের পর ভারত এখন নিজের সক্ষমতার উপর আরও বেশি ভরসা করছে। লালকেল্লা থেকে সেই আত্মবিশ্বাসের কথাই দেশবাসীর সামনে তুলে ধরলেন নরেন্দ্র মোদী।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More