Narendra Modi's Message: GDP বৃদ্ধি ৭.৮% হলেও বিদেশ ভ্রমণ, অপ্রয়োজনে সোনা কেনায় 'না'- দেশবাসীকে মোদীর বড় বার্তা

মোদী বলেন, শুধুমাত্র আনন্দ বা অবসর কাটানোর জন্য বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, বিদেশে বিয়ে করার প্রবণতাও এড়ানো উচিত। আর প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার ক্ষেত্রেও সংযম দেখানো দরকার। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশের মানুষ যত বেশি দেশীয় পণ্য ব্যবহার করবেন, তত বেশি শক্তিশালী হবে ভারতের অর্থনীতি।

Published on: Sep 1, 2026, 10:23:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Narendra Modi's Message on Indian Economy: দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে স্বনির্ভরতা ও দেশীয় পণ্যের উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি দেশবাসীকে বিদেশ ভ্রমণ কমানোর আহ্বান জানান। বিদেশে গিয়ে বিয়ে না করার পরামর্শও দেন তিনি। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনে সোনা না কেনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে স্বনির্ভরতা ও দেশীয় পণ্যের উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে স্বনির্ভরতা ও দেশীয় পণ্যের উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

মোদী বলেন, শুধুমাত্র আনন্দ বা অবসর কাটানোর জন্য বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, বিদেশে বিয়ে করার প্রবণতাও এড়ানো উচিত। আর প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার ক্ষেত্রেও সংযম দেখানো দরকার। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশের মানুষ যত বেশি দেশীয় পণ্য ব্যবহার করবেন, তত বেশি শক্তিশালী হবে ভারতের অর্থনীতি। স্বনির্ভরতার উপর জোর দিলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যও দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে।

মোদী বলেন, ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় দেশের হাতে একটি উন্নত ভারতের ছবি তুলে দিতে হবে। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে এখন থেকেই দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই বার্তায় দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারত ৭.৮ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাঁর দাবি, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, যুদ্ধ, সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় একাধিক বাধার মধ্যেও এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

মোদীর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট অনিশ্চিত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ চলছে। একাধিক দেশে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট রয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন দেশের বিরোধীদেরও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, দেশের মধ্যেই কিছু মানুষ হতাশার পরিবেশে ডুবে থেকে চারদিকে ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ ছড়াচ্ছেন। কিন্তু সেই সমস্ত নেতিবাচক প্রচার এবং চ্যালেঞ্জ পেরিয়েই ভারত ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার অর্জন করেছে।

মোদীর ব্যবহৃত ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ বা ‘ঝুঠ কি গুঞ্জ’ শব্দবন্ধটি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে। এটি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ প্রচারাভিযানকে পরোক্ষে কটাক্ষ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই প্রচারাভিযানে কাগজ ফাঁস, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম নিয়েও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আজ যে পরিশ্রম করা হচ্ছে, তার সুফল ভবিষ্যতে দেশের যুব সমাজ পাবে। মোদী বলেন, তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করাই দেশের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আজকের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আগামী দিনের ভারত তৈরি হবে।

তিনি দেশবাসীকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের নীতি সঠিক পথে রয়েছে। উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। আর ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তি ভারতকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মূল সুর হল—দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও নিজেদের কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং জীবনযাপনের কিছু সিদ্ধান্তে দেশীয় ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদেশি পণ্যের বদলে স্বদেশি পণ্য কেনা, অপ্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো এবং দেশের অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো—এই তিনটি বিষয়কেই তিনি কার্যত সামনে এনেছেন। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে এবং স্বনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে দেশবাসীর অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More