শত্রুদের থরহরিকম্প! তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন পেল ভারত, নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত INS তারাগিরি
প্রতিরক্ষা সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে ভারতের তৃতীয় এসএসবিএন এখন কার্যকর হয়েছে। এসএসবিএন হল পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন, যা দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ করতে সক্ষম।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যে সামরিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ভারত। সেই রেশ বজায় রেখেই এবার সমুদ্রে শত্রুর বুকে ভয় ধরিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করল ভারত। শুক্রবার ভারত তার তৃতীয় পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন, আইএনএস আরিদমন-কে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত এই অন্তর্ভুক্তিকরণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গোপন রাখা হলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনাটির ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন, 'এটা শুধু কথা নয়, শক্তি, আরিদমন।' অন্যদিকে, এদিনই প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে স্টিলথ ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরি-কে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আইএনএস 'আরিদমন'
প্রতিরক্ষা সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে ভারতের তৃতীয় এসএসবিএন এখন কার্যকর হয়েছে। এসএসবিএন হল পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন, যা দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর আগে, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন যে আইএনএস আরিদমন চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই এটিকে কমিশন করা হবে। পারমাণবিক সাবমেরিনের মোটামুটি দু’টি শ্রেণি রয়েছে। যার অন্যতম হল ‘শিপ সাবমার্সিবল ব্যালেস্টিক নিউক্লিয়ার’ বা এসএসবিএন। এরা এক দিকে যেমন পরমাণু শক্তি দ্বারা চালিত, পাশাপাশি পারমাণবিক হামলাতেও সক্ষম। অরিদমন তৈরি করেছে এলঅ্যান্ডটি। বিশাখাপত্তনমের জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে এটি নির্মিত হয়েছে। এই ডুবোজাহাজে ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কে-১৫ এবং অনির্দিষ্ট সংখ্যক কে-৪ পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল থাকবে, যার পাল্লা ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি।
আধুনিক রণকৌশল বলছে, একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের উপর অন্য একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র যদি পরমাণু হামলা চালায়, তা হলে এমন ভাবে হামলা চালানো হবে যাতে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডে যত পারমাণবিক পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলির সব ক’টিকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। সেই কারণেই ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ বা পরমাণু হামলা চালানোর বিকল্প পরিকাঠামো হাতে থাকা জরুরি। স্থলভাগে যে সব পরমাণু পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলিতে প্রতিপক্ষ হামলা চালাতে সক্ষম হলেও সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা পরমাণু অস্ত্রের ক্ষতি করা সম্ভব হয় না।
আইএনএস তারাগিরি
আইএনএস তারাগিরি হল প্রজেক্ট ১৭এ (নীলগিরি-শ্রেণি)-এর চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ, যা মুম্বইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (এমডিএল)-এ নির্মিত হয়েছে। এদিন বিশাখাপত্তনমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং স্টিলথ ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরি-কে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরপরেই রাজনাথ সিং বলেন, আইএনএস তারাগিরি নৌবাহিনীর শক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, 'আইএনএস তারাগিরি আমাদের নৌবাহিনীর শক্তি, মূল্যবোধ এবং অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে। পারস্য উপসাগর হোক বা মালাক্কা প্রণালী, আমাদের নৌবাহিনী ভারত মহাসাগরে নিরন্তর নিজস্ব উপস্থিতি বজায় রাখে। যখনই কোনও সংকট দেখা দেয়, তা উদ্ধার অভিযান হোক বা মানবিক সহায়তা প্রদান, আমাদের নৌবাহিনী সর্বদা অগ্রভাগে থাকে। আমাদের নৌবাহিনী ভারতের মূল্যবোধ ও অঙ্গীকারের প্রতীক। আইএনএস তারাগিরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু আমাদের নৌবাহিনীর শক্তি, মূল্যবোধ এবং অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে। ' প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, 'এখন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ 'তারাগিরি' ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। তারাগিরির অন্তর্ভুক্তি ভারতের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তির প্রতীক। এই উপলক্ষে আমি মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড এবং ভারতীয় নৌবাহিনী-সহ সকল দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই।'
E-Paper

