'বইটি আর পাওয়া যাবে না!' 'সুপ্রিম' সমালোচনার মুখে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা NCERT-র

সপ্তাহখানেক আগেই অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি-র পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’র অধ্যায় নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

Published on: Mar 10, 2026 2:08 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি সংক্রান্ত অধ্যায় নিয়ে নজিরবিহীন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সুপ্রিম কোর্টও এর বিরোধিতা করে তোপ দেগেছিল। শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার পরে অবশেষে সর্বসমক্ষে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ক্ষমা চাইল এনসিইআরটি। একই সঙ্গে বইটি প্রত্যাহার করার কথাও জানিয়েছে সংস্থা।

নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা NCERT-র (HT_PRINT)
নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা NCERT-র (HT_PRINT)

মঙ্গলবার সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিইআরটি জানিয়েছে, ‘সম্প্রতি ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এনসিইআরটি) তরফে ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড-গ্রেড ৮’ শীর্ষক সমাজবিজ্ঞান বইয়ে ‘আমাদের সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকা’ নামে একটি অধ্যায় প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই অধ্যায় অযোগ্য। উক্ত ওই অধ্যায়ের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছে কাউন্সিল। তাতে ‘সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক চতুর্থ অধ্যায়টি প্রকাশের জন্য এনসিইআরটি-র অধিকর্তা এবং সদস্যরা নিঃশর্ত ভাবে ক্ষমা চাইছেন। পুরো বইটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আর কোথাও পাওয়া যাবে না।'

সপ্তাহখানেক আগেই অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি-র পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’র অধ্যায় নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তারপরই কড়া অবস্থান নেয় সুপ্রিম কোর্ট। ‘বিতর্কিত’ ওই পাঠ্যবই নিষিদ্ধ করে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেছিলেন, 'কোনও অবস্থাতাতেই কাউকে বিচার বিভাগের সম্মান নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না ৷ বিচার বিভাগের সততাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে এমন কোনও কাজও কাউকে করতে দেওয়া হবে না ৷' দুঃখপ্রকাশ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। উল্লেখ্য, এর আগের সংস্করণের পাঠ্যবইয়ে মূলত দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের ভূমিকার কথাই শুধু ছিল। কিন্তু নতুন বইয়ে ‘আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক সংশোধিত অধ্যায়ে শুধুমাত্র আদালতের গঠন, কাঠামো, ন্যায়বিচারের সুযোগের মধ্যেই আলোচনা সীমিত রাখা হয়নি। বিচারব্যবস্থার কাজকর্মে প্রভাব ফেলে, এমন সমস্যাগুলিও তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির প্রসঙ্গও।

বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দুই প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিংভি ৷ এরপর এ ব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এলং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চলির বেঞ্চ ৷ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেই এনসিইআরটির আচরণের তীব্র সমালোচনা করে আদালত ৷ শুধু তাই নয়, সংস্থার কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৷ এ প্রসঙ্গে তৈরি হওয়া বিতর্ককে তারা যে মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় ৷ পিএমও আরও জানায়, সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার আগেই তারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ৷ এমনই নানা ঘটনার পর অবশেষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল এনসিইআরটি এবং বইটি প্রত্যাহার করার কথাও জানিয়ে দিল ৷