NCPI MPs Case in Supreme Court: ২০ এনসিপিআই সাংসদের ভবিষ্যৎ ঝুলে সুপ্রিম কোর্টে? স্পিকারকে চাপে ফেলতে অভিষেকের মামলা

অভিষেকের আবেদনের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের শিবির বদলের বিষয়টি। তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছেন এবং এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ।

Published on: Aug 25, 2026, 11:55:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে গেলেও ঝুলে রয়েছে ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের ভবিষ্যৎ। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেননি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে গেলেও ঝুলে রয়েছে ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের ভবিষ্যৎ। (Rahul Singh)
বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে গেলেও ঝুলে রয়েছে ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের ভবিষ্যৎ। (Rahul Singh)

অভিষেকের আবেদনের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের শিবির বদলের বিষয়টি। তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছেন এবং এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের বক্তব্য, কোনও সাংসদ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের ইচ্ছায় অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারেন না। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য লোকসভার স্পিকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল।

এর আগে বাদল অধিবেশন চলাকালীনই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করে। ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় এবং সংসদে তাঁদের অবস্থান নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে। তৃণমূলের দাবি ছিল, তাঁদের কোনও পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আইনসঙ্গত নয়।

অন্যদিকে, এনসিপিআই গোষ্ঠীর দাবি ছিল, তৃণমূলের মোট ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ দল ছেড়েছেন। সেই যুক্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে না বলেই ওই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এই অবস্থায় সংসদের ভিতরে তাঁদের আসন নিয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, স্পিকার এখনও তাঁদের আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেননি। একইসঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে যে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আবেদন করা হয়েছিল, তারও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় স্পিকার এবং লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে পক্ষ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকেও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হলে সংসদীয় গণতন্ত্র এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনের উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ায় মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ অধিবেশন চলাকালীনই ২০ সাংসদকে ঘিরে সংসদের ভিতরে নানা পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। তাঁদের আলাদা আসন দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিরোধীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিরোধী দলগুলির একাংশ সংসদের সর্বদলীয় বৈঠক থেকেও প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে এসেছিল।

এখন মূল নজর সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে। দেশের শীর্ষ আদালত স্পিকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয় কি না, নাকি বিষয়টি সংসদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া হিসেবে স্পিকারের কাছেই ছেড়ে দেয়, তা দেখার। একইসঙ্গে ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রয়োগের প্রশ্নেও এই মামলার প্রভাব পড়তে পারে।

ফলে বাদল অধিবেশন শেষ হলেও ২০ এনসিপিআই সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থামছে না। বরং বিষয়টি এবার পৌঁছে গিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আজকের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে তৃণমূল, এনসিপিআই এবং জাতীয় রাজনীতি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More