Nahid on Suvendu & India: শয়নে স্বপনে শুধু ভারত! শুভেন্দুকে তোপ দেগে দিল্লিকে ক্ষমা চাইতে বলল NCP-র নাহিদ
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করার জন্য ভারতের বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
কিছুদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর ঘোষণাও দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিরোধী দল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-র এক নেতার মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করার জন্য ভারতের বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ভারতের ভূমিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুই হওয়া উচিত ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় ভারতকে দায় স্বীকার করতে হবে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকেও আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেদের জাতীয়তাবাদী দল বলে দাবি করলেও সীমান্তে প্রাণহানি রোধে তারা কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার ও বিদেশ মন্ত্রণালয়ের আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা প্রদান করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এটি মূলত রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রোটোকল সংক্রান্ত মর্যাদা এবং এর জন্য 'টেবিল অব প্রিসিডেন্স'-এ কোনও স্থায়ী পরিবর্তন আনা হয়নি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাধারণ ভ্রমণ ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ২৮ জুন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা—এই পাঁচটি কেন্দ্র থেকে ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে তিনি জানান। ভবিষ্যতে এই পরিষেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহল থেকে আসা এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার কারণ হতে পারে। এখন ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং দুই দেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


