Nepal Latest Situation Update: জ্বলছে নেপাল! চলতি সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত স্থগিত, চাপে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ
প্রশাসনের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে প্রকাশ্য রাস্তায় নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ২৫ বছরের যুবক গণেশ নেপালি। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল নেপাল। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ যে চলতি সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে।
Nepal Latest Situation Update: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক তরুণের আত্মাহুতিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সরকার। ঋণের বোঝা, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে প্রকাশ্য রাস্তায় নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ২৫ বছরের যুবক গণেশ নেপালি। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল নেপাল। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ যে চলতি সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে। মাত্র চার মাস আগে বিপুল যুবসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা বলেন্দ্র শাহ সরকারের কাছে এটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জুলাই। পেশায় বাইকচালক গণেশ নেপালি একটি রাইড-শেয়ারিং অ্যাপের হয়ে কাজ করতেন। ওই বাইকই ছিল তাঁর এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। অভিযোগ, কাঠমান্ডুর পাসপোর্ট দফতরের বাইরে রাস্তা আটকে রাখার অভিযোগে পুলিশ তাঁর মোটরবাইকের চাকায় ক্ল্যাম্প লাগিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে কর্তব্যরত এক আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা ও ধস্তাধস্তি হয়।
এরপরই চরম সিদ্ধান্ত নেন গণেশ। নিজের বাইক থেকে পেট্রোল বের করে শরীরে ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শরীরের ৬০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়ায় একদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, ঋণ করে কেনা বাইকের কিস্তি শোধের সময় ঘনিয়ে এসেছিল। বাইক বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর কীভাবে সংসার চলবে, সেই দুশ্চিন্তাই তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। গণেশের বাড়ি নেপালের প্রত্যন্ত মুগু জেলায়। তাঁর বাবা-মা প্রান্তিক কৃষক। বড় ভাই মদন নেপালি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেও কাঠমান্ডুতে দিনমজুরের কাজ করেন। দুই ভাইয়েরই স্বপ্ন ছিল টাকা জমিয়ে উপসাগরীয় দেশ, পরে জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজ করতে যাওয়া।
এই মৃত্যুর পর থেকেই নেপালজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীরা সরকারকে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা এই মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দ্রুত ক্ষতিপূরণমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।
সরকার জানিয়েছে, গণেশের ২০ বছরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী একমায়া পরিয়ারকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে এবং তাঁদের দুই বছরের মেয়ের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার নেবে। পাশাপাশি তাঁর নাগরিকত্বের শংসাপত্রও দ্রুত তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি সমস্ত সুবিধা তিনি পান। ঘটনার তদন্তে ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণেশকে ‘শহিদ’ মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে শুধু এই মৃত্যুই নয়, সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা একাধিক ক্ষোভও এখন বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠন ভেঙে দেওয়া, সংসদ এড়িয়ে অধ্যাদেশ জারি এবং সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে উচ্ছেদ অভিযানে হাজার হাজার মানুষের গৃহহীন হয়ে পড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। গণেশের শেষকৃত্যে তাঁর পরিবারের পাশাপাশি উচ্ছেদ হওয়া বহু মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে কটাক্ষ করে বলেছে, এবার তাঁর ‘কালো চশমা’ খুলে বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে। অন্যদিকে সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে গণেশ নেপালির মৃত্যু যে নেপালের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে, তা স্পষ্ট। তরুণদের ক্ষোভ যদি আরও বাড়ে, তাহলে বলেন্দ্র শাহ সরকারের সামনে আগামী দিনে আরও কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


