মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! পশ্চিমা সংঘাতে ভারতে আটকে পড়া বিদেশিদের বিশেষ পরামর্শ নয়াদিল্লির
ইরান অনেক আগেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ ইজরায়েলের আকাশসীমাও।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণে নিহত হয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বেই এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে প্রভাবিত হয়েছে বিমান পরিষেবা। আর তার ফলে বহু বিদেশি নাগরিক আটকে পড়েছেন ভারতে। এই আবহে তাঁদের উদ্বিগ্ন না-হওয়ার পরামর্শ দিল নয়া দিল্লি।

রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিম এশিয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য যে সব বিদেশি নাগরিককে ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা পাল্টাতে হয়েছে বা ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং ভারতে থাকার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বৃদ্ধির প্রয়োজন তাঁরা যেন নিকটবর্তী ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এ যোগাযোগ করেন।’ এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটেও জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ইরান অনেক আগেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ ইজরায়েলের আকাশসীমাও। পরে রয়টার্স জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহারিন, ইরাক, কুয়েত এবং কাতারও নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুবাই বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
এর আগে খালিজ টাইমস জানায়, উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যে রবিবার ৭০০ টিরও বেশি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে, কারণ এই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শনিবারই ইরান ও ইজরায়েলে বসবাসকারী ভারতীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে নয়া দিল্লি। শনিবার রাতে একটি বার্তায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসগুলিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলার জন্য ভারতীয়দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, ও ইরানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশ। পরবর্তী না আসা পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমান পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
E-Paper

