New FD Rule: ১ অক্টোবর থেকে FD-তে নতুন নিয়ম, একই দিনে একই অঙ্কে সব শাখায় এক সুদ! ৩ কোটি পেরোলেই ওয়েবসাইটে রেট
১ অক্টোবর ২০২৬-এর পর থেকে বদলে যেতে চলা নিয়মগুলি জেনে রাখা জরুরি। টার্ম ডিপোজিটের সুদের হার নিয়ে গ্রাহকদের জন্য আরও স্বচ্ছতা আনতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে RBI। এক ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখায় একই ধরনের আমানতের ক্ষেত্রে সুদের হারে যাতে অযথা ফারাক না থাকে, সে দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট (FD) রয়েছে? কিংবা পুজোর পরে নতুন করে টাকা রাখার পরিকল্পনা করছেন? তা হলে ১ অক্টোবর ২০২৬-এর পর থেকে বদলে যেতে চলা নিয়মগুলি জেনে রাখা জরুরি। টার্ম ডিপোজিটের সুদের হার নিয়ে গ্রাহকদের জন্য আরও স্বচ্ছতা আনতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। এক ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখায় একই ধরনের আমানতের ক্ষেত্রে সুদের হারে যাতে অযথা ফারাক না থাকে, সে দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হবে ১ অক্টোবর থেকে।

নতুন ব্যবস্থায় একই ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখায় রাখা আমানতের জন্য সুদের হার একই রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কলকাতার কোনও শাখায় যে হারে নির্দিষ্ট অঙ্ক ও একই ধরনের মেয়াদের FD করা হচ্ছে, একই দিনে একই ধরনের আমানত অন্য শহর বা গ্রামীণ এলাকার শাখায় করলে আলাদা হার দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। নিয়ম অনুযায়ী, একই দিনে গ্রহণ করা একই রকম অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে সব শাখা এবং সব গ্রাহকের জন্য সুদের হার এক রাখতে হবে।
এর ফলে FD করার আগে শুধু বেশি সুদের আশায় এক শাখা থেকে অন্য শাখায় ছোটাছুটি করার প্রয়োজন কমবে। গ্রাহক আগে থেকেই ব্যাঙ্কের প্রকাশ করা সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। RBI-এর নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, আমানতের সুদের হার ব্যাঙ্ককে আগে থেকেই প্রকাশ করতে হবে এবং সেই ঘোষিত হারের বাইরে আলাদা ভাবে দর-কষাকষির সুযোগ থাকবে না।
সবচেয়ে বেশি নজর পড়ছে বড় অঙ্কের আমানতের দিকে। নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির ক্ষেত্রে ৩ কোটি টাকা বা তার বেশি একক টার্ম ডিপোজিটকে ‘বাল্ক ডিপোজিট’ হিসাবে ধরা হয়। এই ধরনের বড় অঙ্কের আমানতের সুদের হার নিয়ে এত দিন সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে আগেভাগে তথ্য পাওয়া সবসময় সহজ ছিল না। নতুন নিয়মে সেই জায়গাতেই স্বচ্ছতা বাড়ানো হচ্ছে।
১ অক্টোবর থেকে ব্যাঙ্কগুলিকে প্রতিটি কর্মদিবসে বাল্ক ডিপোজিটের সুদের হার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। RBI নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দিয়েছে। সকাল ১০টার মধ্যে এই তথ্য প্রকাশ করার কথা। তবে প্রযুক্তিগত বা পরিচালনাগত কারণে ১০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সকাল ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যে দিনের বাল্ক ডিপোজিটের রেট ওয়েবসাইটে দেখতে পাওয়া উচিত।
এর ফলে কোনও সংস্থা বা বড় বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্কে টাকা রাখার আগে অনলাইনে দেখে নিতে পারবেন, সেই দিনের জন্য কত সুদ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্কের প্রস্তাব তুলনা করাও তুলনামূলক ভাবে সহজ হবে।
তবে নতুন নিয়ম মানেই FD-র সুদের হার সবাইয়ের জন্য এক হয়ে যাবে—এমন নয়। মেয়াদ বা আমানতের অঙ্কের মতো অনুমোদিত কারণের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক সুদের কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে। বড় অঙ্কের বাল্ক ডিপোজিটের ক্ষেত্রে RBI-এর নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভিন্ন হার রাখার সুযোগও রয়েছে। মূল পরিবর্তন হচ্ছে, যে হার প্রযোজ্য, তা যেন শাখাভেদে বা গ্রাহকভেদে গোপনে বদলে না যায় এবং বড় আমানতের ক্ষেত্রেও তথ্য প্রকাশ্যে থাকে।
তাই ১ অক্টোবরের পর FD করার আগে ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সুদের হার দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ৩ কোটি টাকা বা তার বেশি জমা রাখার ক্ষেত্রে দিনের বাল্ক ডিপোজিট রেট দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সাধারণ FD গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের মূল বার্তা একটাই—একই ব্যাঙ্কে একই ধরনের আমানত হলে সুদের হার নিয়ে শাখাভেদে অস্বচ্ছতা কমাতে হবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


