New Political Parties: প্রতি ১০ দিনে ১টি করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হচ্ছে দেশে, চলতি বছরে এখনও নিবন্ধিত ২১টি পার্টি

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রায় প্রতি ১০ দিন অন্তর একটি করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে তিনটিরও বেশি নতুন দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২১টি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছে।

Published on: Jul 2, 2026, 09:18:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

New Political Parties: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের পর হঠাৎ করেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ এই দলে যোগ দিয়ে এনডিএকে সমর্থন করায়, একসময় প্রায় অচেনা এই দলটি এখন এনডিএর অন্যতম বড় শরিক হিসেবে উঠে এসেছে। এই আবহে ছোট ও অপরিচিক রাজনৈতিক দলগুলি নিয়ে নতুন করে কৌতুহল জন্মেছে রাজনৈতিক মহলে।

২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২১টি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২১টি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রায় প্রতি ১০ দিন অন্তর একটি করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে তিনটিরও বেশি নতুন দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২১টি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে ৩৬টি এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে-পরে মোট ১৪৮টি নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছিল।

একই সময়ে নির্বাচন কমিশন গত বছর ৩৪৫টি নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এই দলগুলি টানা ছয় বছর কোনও নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং আর্থিক হিসাবও জমা দেয়নি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২,৫০০টি নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল রয়েছে, যাদের অধিকাংশই জনপরিসরে প্রায় অচেনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ছোট দলগুলি নির্বাচনের সময় বড় রাজনৈতিক দলগুলির কৌশলের অংশ হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ভোট ভাগ করার উদ্দেশ্যে প্রার্থী দাঁড় করানো বা নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার জন্য এই দলগুলিকে ব্যবহার করা হয়। যদিও এই অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সব ক্ষেত্রে সামনে আসে না, তবুও এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।

এছাড়া ছোট রাজনৈতিক দলগুলিকে ঘিরে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া অনুদানের ওপর আয়কর ছাড় এবং ২,০০০ টাকা পর্যন্ত নগদ অনুদানদাতার পরিচয় প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় কিছু ছোট দলকে কালো টাকা সাদা করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র মূল্যের রসিদ ছাপিয়ে দেখানো হয় যে বিপুল সংখ্যক ছোট অনুদান সংগ্রহ হয়েছে। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন ভুয়ো পরিষেবা বা নির্বাচনী খরচের বিল দেখিয়ে বৈধ লেনদেন হিসেবে তুলে ধরা হয়। যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়।

এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলকে নগদ অনুদানের নিয়ম পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন। একটি জনস্বার্থ মামলায় রাজনৈতিক দলগুলিকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত নগদ অনুদান গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার এবং অনুদানের পরিমাণ যাই হোক না কেন, সমস্ত রাজনৈতিক অনুদানকে আয়কর আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নিবন্ধিত কিন্তু কার্যত নিষ্ক্রিয় দলগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরদার করতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More