CAA Citizenship New Rule: বাংলায় সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র

নতুন এই ব্যবস্থা মূলত পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৬বি ধারার অধীনে পঞ্জিকরণ বা ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য করা আবেদনগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

Published on: Aug 20, 2026, 12:40:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী ছয় রাজ্য এবং দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা কেক্টরদের নাগরিকত্ব দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদন মঞ্জুর করে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া জেলা স্তরেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল।
কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল।

নতুন এই ব্যবস্থা মূলত পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৬বি ধারার অধীনে পঞ্জিকরণ বা ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য করা আবেদনগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

‘দ্য ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব (তৃতীয় সংশোধন) নিয়ম, ২০২৬ অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে গুজরাত, রাজস্থান, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে। তবে অসম ও ত্রিপুরার জনজাতীয় এলাকা এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না।

নিয়ম বদলের পর আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট জেলার কেক্টরের কাছে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর কেক্টর ইলেকট্রনিকভাবে ফর্ম IX-এ পজিশন বা পাভতি দেবেন। এরপর জমা দেওয়া নথিপত্র যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীর যোগ্যতা ও উপযুক্ততা যাচাই করতে অতিরিক্ত তদন্তও করা যাবে।

নতুন নিয়মে জেলা কেক্টরের দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে। তিনি আবেদনকারীর কাছ থেকে নাগরিকত্ব আইনের দ্বিতীয় তফসিলে নির্ধারিত আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করাবেন। এরপর ৬বি ধারার শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর এবং আনুগত্যের শপথ নিতে হবে। যথাযথ সুযোগ দেওয়ার পরও কেউ উপস্থিত না হলে তাঁর আবেদন বাতিল করা যেতে পারে।

এতদিন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা মূলত সশক্ত কমিটি এবং জেলা স্তরের কমিটির হাতে ছিল। নতুন নিয়মে এই দুই কমিটির কাছে ৬বি ধারার যে আবেদনগুলি এখনও ঝুলে রয়েছে, সেগুলিও সংশ্লিষ্ট জেলা কেক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নাগরিকত্বের একাধিক ফর্মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিয়ম ১৪, ১৫ এবং ৩৮-এ প্রয়োজন অনুযায়ী কেক্টরের ভূমিকা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফর্মে সংশোধন করে নির্দিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বসবাসকারী আবেদনকারীদের পূরণ করা ফর্ম সংশ্লিষ্ট কেক্টরের কাছে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ১৯ অগস্ট পৃথক একটি আদেশও জারি করেছিল। সেখানে সশক্ত কমিটি এবং জেলা স্তরের কমিটির কাছে ঝুলে থাকা ৬বি ধারার আবেদনগুলি সংশ্লিষ্ট কেক্টরদের কাছে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে, নতুন ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা আরও বেশি করে জেলা প্রশাসনের হাতে চলে এল। সরকারের আশা, এতে আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়বে এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা অনেকটাই কমবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More