আবিষ্কার হল নতুন একটা রং! এমনই দুর্ভাগ্য ছাপানো যাবে না এটি, তবে দেখা যাবে! নতুন দিগন্তের আলো মানবজাতির সামনে

বিজ্ঞানী ও বর্ণবিদদের মতে, 'Olo' কোনও সাধারণ রাসায়নিক পিগমেন্ট বা তরল পেইন্ট নয়। এটি সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী ভৌত আলোক তরঙ্গজাত রং। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, আধুনিক প্রযুক্তির প্রিন্টার বা প্রেস দিয়ে এই রং কাগজে বা কোনো কাপড়ে ছাপানো একেবারেই অসম্ভব।

Published on: Aug 12, 2026, 20:30:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রং বা বর্ণের জগতে আলোড়ন তুলে সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের হাতে আত্মপ্রকাশ করেছে এক বিষ্ময়কর নতুন রং—‘Olo’ (ওলো)। মানবজাতির ইতিহাসে লাল, নীল, হলুদ কিংবা সবুজ রঙের নানাবিধ শেড আমরা হাজার বছর ধরে দেখে আসছি। তবে নতুন আবিষ্কৃত এই 'ওলো' এমন এক বর্ণ, যা রংচিত্রের পরিচিত সব ধারণাকে এক লহমায় বদলে দিয়েছে। সাধারণ রং দিয়ে ছবি আঁকা বা কোনও বস্তুর ওপর প্রলেপ দেওয়ার প্রচলিত অভিজ্ঞতার চেয়ে এটি সম্পূর্ণ আলাদা।

আবিষ্কার হল নতুন একটা রং! এমনই দুর্ভাগ্য ছাপানো যাবে না এটি, কীভাবে দেখবেন এটি
আবিষ্কার হল নতুন একটা রং! এমনই দুর্ভাগ্য ছাপানো যাবে না এটি, কীভাবে দেখবেন এটি

বিজ্ঞানী ও বর্ণবিদদের মতে, 'Olo' কোনও সাধারণ রাসায়নিক পিগমেন্ট বা তরল পেইন্ট নয়। এটি সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী ভৌত আলোক তরঙ্গজাত রং। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, আধুনিক প্রযুক্তির প্রিন্টার বা প্রেস দিয়ে এই রং কাগজে বা কোনো কাপড়ে ছাপানো একেবারেই অসম্ভব। কেন 'Olo' কাগজে ছাপানো যায় না, এটি আসলে কী ধরনের রং এবং কীভাবে মানুষ এটি নিজের খালি চোখে দেখতে পাবে—তা জেনে নিন।

১. ওলো (Olo) আসলে কী ধরনের রং?

'Olo' কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক রঞ্জক পদার্থ (Chemical Pigment) বা উদ্ভিজ্জ নির্যাস দিয়ে তৈরি রং নয়। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি ‘স্ট্রাকচারাল কালার’ (Structural Color) এবং এটি আলোর বিশেষ মেরুকরণ (Polarization) ও নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রতিফলনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।

  • প্রাকৃতিক অনুপ্রেরণা: প্রকৃতিতে ময়ূরের পেখম, প্রজাপতির ডানা কিংবা ঝিনুকের ভেতরের চকচকে অংশ কোনো রাসায়নিক কালার দিয়ে তৈরি নয়; বরং মাইক্রোস্কোপিক কাঠামোর ওপর আলো পড়ে প্রতিফলিত হয়ে সেখানে যে অনন্য আভা তৈরি হয়, তাকে স্ট্রাকচারাল কালার বলে।
  • Olo-র অনন্যতা: Olo তৈরি করতে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ন্যানো-স্ট্রাকচার (Nanostructures) বা মাইক্রো-মিরর গ্রিড ব্যবহার করা হয়। এটি দৃশ্যমান আলোক বর্ণালীর (Visible Spectrum) আলোকরশ্মিকে বিশেষ কোণে ভেঙে ফেলে, যার ফলে চোখের রেটিনায় এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় রঙের স্পন্দন তৈরি হয়।

২. কেন Olo কোনওভাবেই প্রিন্ট বা ছাপানো যাবে না?

ছাপাখানা বা ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ে আমরা মূলত CMYK (Cyan, Magenta, Yellow, Key/Black) পিগমেন্ট বা কালির রাসায়নিক মিশ্রণ ব্যবহার করি। কোনো বস্তু বা কাগজের ওপর প্রলেপ পড়ে সেই কালি আলোর নির্দিষ্ট বর্ণালী শুষে নেয় এবং বাকি আলো প্রতিফলিত করে রঙ ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু ওলো-র ক্ষেত্রে ঘটনাটি পুরোপুরি ভিন্ন।

  • পিগমেন্টের অনুপস্থিতি: Olo কোনো তরল বা গুঁড়ো কালি নয়। ফলে একে কোনো কালির কার্টিজে ভরা বা কাগজের ওপর স্প্রে করে লেপে দেওয়া অসম্ভব।
  • মাইক্রোস্কোপিক কাঠামোর বাধ্যবাধকতা: ওলো তৈরি হতে আলোর প্রতিফলক ন্যানো-লেয়ারের প্রয়োজন হয়। সাধারণ কাগজ বা কাপড়ের উপরিভাগ অমসৃণ ও ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় সেখানে আলোর সূক্ষ্ম বিচ্ছুরণ ঘটে না। ন্যানো-স্কেলের ওই ভৌত গঠন কাগজে তৈরি করা সম্ভব নয় বলেই প্রচলিত কোনো মুদ্রণযন্ত্রে Olo কালারে কোনো কাগজ বা ক্যানভাস ছাপানো সম্ভব নয়।
  • রঙের পরিবর্তনশীলতা: কাগজের সাধারণ প্রিন্ট যেকোনো কোণ থেকে দেখলে একই রঙের দেখায়। কিন্তু Olo আলোর সাপেক্ষে দিক পরিবর্তন করে। তাই ফ্ল্যাট কাগজে এটি ধরে রাখা বিজ্ঞানের নিয়মে অসম্ভব।

৩. কীভাবে দেখা যাবে এই নতুন রং 'Olo'?

যেহেতু Olo সাধারণ ক্যানভাসে আঁকা বা কাগজে ছাপা সম্ভব নয়, তাই এটি দেখতে হলে বিশেষ দুটি মাধ্যম বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে:

  • বিশেষ ডিসপ্লে ও ওলেড (OLED/MicroLED) প্রযুক্তি: উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক মাইক্রো-এলইডি বা বিশেষ লেজার ডিসপ্লে প্রযুক্তির সাহায্যে আলোকরশ্মিকে বিশেষ ন্যানো-প্রিজমের মধ্য দিয়ে প্রতিসারিত করে চোখের সমক্ষে ওলো রং ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
  • হলোগ্রাফিক ও থ্রি-ডি স্পেকট্রাম: কোনো বিশেষ লেন্স বা থ্রি-ডি হলোগ্রাফিক প্রজেক্টরের সাহায্যে বাতাসের প্রিজম পয়েন্টে আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য ফেলে সরাসরি মানুষের চোখের রেটিনায় Olo-র অনুভূতি পৌঁছে দেওয়া যায়।
  • বিশেষ ন্যানো-কোটিং যুক্ত সারফেস: যদি অতি-মসৃণ ধাতু বা কাচের ওপর ন্যানো-ফ্যাব্রিকেশন প্রক্রিয়ায় সিলিকন লাইট-গ্রেটিং কোট করা হয়, তবেই নির্দিষ্ট কোণে আলো ফেললে খালি চোখে এই ওলো রঙের মায়াবী রূপ দেখা সম্ভব।
Olo এরই কাছাকাছি একটি রং
Olo এরই কাছাকাছি একটি রং

বিজ্ঞান ও আলোক প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব আবিষ্কার রঙিন দুনিয়ায় এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। প্রিন্টিং প্রেসের গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল ডিসপ্লে, অপটিক্যাল রিসার্চ এবং ভবিষ্যতের ভিজ্যুয়াল আর্টে Olo নিঃসন্দেহে মানবজাতিকে এক নতুন দিগন্তের আলো দেখাবে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More