Red Fort Blast: লালকেল্লা প্রথম টার্গেট ছিল না, আসল নিশানায় ঐতিহাসিক মন্দির! দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Red Fort Blast: উমর নবী ও শাহিন সইদের কাছ থেকে পাওয়া পেনড্রাইভে পিডিএফ পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে বিস্তারিত বর্ণনা ছিল ইউরিয়া নাইট্রেট দিয়ে কীভাবে বিস্ফোরক তৈরি করা যায়। সেখানেই উল্লেখ ছিল যে মূত্র থেকে ইউরিয়া কীভাবে তৈরি করে।

Published on: Sep 10, 2026, 19:32:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Red Fort Blast: ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির লালকেল্লা (Delhi Red Fort) চত্বরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের মামলায় এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) সম্প্রতি দাখিল করা চার্জশিট বলছে, সম্ভবত ইউরিয়া ব্যবহার করেছিল বোমা তৈরি করতে। সুইসাইড বম্বার, পেশায় চিকিৎসক উমর উন নবী এই বোমা তৈরির জন্য মূত্র থেকে ইউরিয়া বের করেছিল।

দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য (HT_PRINT)
দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য (HT_PRINT)

এনআইএ-র চার্জশিটে বলা হয়েছে, সুইসাইড বম্বার উমর উন নবী চাঁদনি চকের ঐতিহাসিক জৈন মন্দির—লাল মন্দিরের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই আই২০ গাড়িটি রেখেছিল। এরপরে সেই গাড়ি নিয়ে লালকেল্লার কাছে পার্কিংয়ে নিয়ে গিয়ে রাখে। ওখানেই বিস্ফোরণ হয় গাড়িটির। ওই বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অনেকে। এনআইএ-র হাতে আসা সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী, বিস্ফোরণের আগে প্রায় ১১ দিন হরিয়ানার নুহ এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে লুকিয়ে ছিল নবী। ওই বাড়িতেই সে বিস্ফোরক তৈরি করে।

মূত্র থেকে বোমা তৈরি

উমর নবী ও শাহিন সইদের কাছ থেকে পাওয়া পেনড্রাইভে পিডিএফ পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে বিস্তারিত বর্ণনা ছিল ইউরিয়া নাইট্রেট দিয়ে কীভাবে বিস্ফোরক তৈরি করা যায়। সেখানেই উল্লেখ ছিল যে মূত্র থেকে ইউরিয়া কীভাবে তৈরি করে। এক প্রতিবেশী জানান, তিনি নবীর ঘরে প্রস্রাব ভর্তি পলিথিন ব্যাগ দেখতে পেয়েছিলেন। সেই প্যাকেট থেকে তীব্র কড়া গন্ধ বের হচ্ছিল। এই নিয়ে নবীর বন্ধু শোয়েবকে অভিযোগও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই ভাড়াবাড়িতে বসেই দেশীয় প্রযুক্তিতে মূল বিস্ফোরক তৈরি করা হয়েছিল। এনআইএ চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, নুহে থাকাকালীন নবী শোয়েবের এক আত্মীয়ের সঙ্গে নতুন পোশাক কিনতে গিয়েছিল। সে একটি টি-শার্ট, সাদা শার্ট এবং কার্গো প্যান্ট কিনেছিল। এই সময় নগদ টাকায় লেনদেন করেছিল নবী।

টার্গেট লাল মন্দির?

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, হামলাকারীর প্রাথমিক নিশানায় লালকেল্লা ছিল না। সুইসাইড বম্বারের প্রাথমিক টার্গেট ছিল লাল মন্দির। তবে সেন্ট্রাল দিল্লির ট্রাফিক জ্যামের কারণে শেষ মুহূর্তে প্ল্যান পরিবর্তন করা হয়। এনআইএ-র তদন্তের গতিপ্রকৃতি খুঁটিয়ে দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, সেই দিন ঠিক কতটা বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল প্রাচীন দিল্লির ওই ব্যস্ত মন্দির চত্বর। চার্জশিট অনুযায়ী, গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা ৩৭ মিনিট নাগাদ সুনহেরি মসজিদ পার্কিং থেকে নিজের বিস্ফোরক বোঝাই আই-২০ (i20) গাড়ি নিয়ে বের হয় নবী। তার আসল লক্ষ্য ছিল কাছেই অবস্থিত লাল মন্দির। কিন্তু রাস্তায় মাত্রাতিরিক্ত যানজট এবং পুলিশের উপস্থিতি দেখে পরিকল্পনা বদলে উ-টার্ন (U-turn) নিয়ে লালকেল্লার দিকে চলে যায় সে। ঠিক তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই, সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে ঘটে যায় সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

এনআইএ চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে হামলার মূল চক্রী উমর নবী ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১২ বার লালকেল্লায় গিয়েছিল। বিস্ফোরণের ছয় মাস আগে শেষবার ১ মে লালকেল্লা এলাকা রেকি (reconnaissance) করতে গিয়েছিল নবী। প্রতিবারই ডিজিটাল নজরদারি এড়াতে নবী ও তার সঙ্গীরা নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখত।