Pahalgam Terror Case Update: পহেলগাঁও-কাণ্ডে নয়া মোড়! তদন্তের সুতো পৌঁছাল চিনে

এই সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে ব্যবহৃত সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস হল গোপ্রো হিরো ১২ ক্যামেরা।

Published on: Mar 03, 2026 4:35 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। সেই হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছিলেন। আর এই হামলার দৃশ্য রেকর্ড করতে গোপ্রো হিরো ১২ ক্যামেরা ব্যবহার করেছিল জঙ্গিরা। এবার সেই ক্যামেরা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চিনের সাহায্য চাইল এনআইএ। কারণ, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, ওই গোপ্রো ক্যামেরাটি একজন চিনা ডিসট্রিবিউটারের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।

পহেলগাঁও-কাণ্ডে নয়া মোড়! (AP) (HT_PRINT)
পহেলগাঁও-কাণ্ডে নয়া মোড়! (AP) (HT_PRINT)

সূত্রের খবর, জম্মুর একটি আদালতে চিঠি দিয়ে আবেদন করা হয় হয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে। সেখানে বলা হয়েছে, পহেলগাঁও হামলার সময় জঙ্গিদের ব্যবহৃত গোপ্রো ক্যামেরা চিনের এক ডিসট্রিবিউটারের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার প্রেক্ষিতে এবং তদন্তের স্বার্থে সেই ক্যামেরার তথ্য সংগ্রহে বেজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে তারা। সোমবার আদালত এনআইএ-র আবেদন মঞ্জুর করে। সূত্রের খবর, এই সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে ব্যবহৃত সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস হল গোপ্রো হিরো ১২ ক্যামেরা। যার সিরিয়াল নম্বর হল সি৩৫০১৩২৫৪৭১৭০৬। ওই ক্যামেরা থেকে হামলার আগে কী কী করা হয়েছিল, কোথায় কোথায় গিয়েছিল জঙ্গিরা, এ রকম বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে এনআইএ।

ইতিমধ্যে পহেলগাঁও হামলার তদন্তে নেদারল্যান্ডসে গোপ্রো ক্যামেরার নির্মাণসংস্থার কাছেও তথ্য চাওয়া হয় এনআইএ-র তরফে। কী ভাবে ওই ক্যামেরা জঙ্গিদের হাতে পৌঁছোল, কোন প্রক্রিয়ায় ওই ক্যামেরা সক্রিয় করা হয়েছিল ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর পেতে চান তদন্তকারীরা। নির্মাণকারী সংস্থা গোপ্রো বিভি তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা দাবি করেছে, চিনের ‘এ’-‘ই’ গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছে ক্যামেরাটি সরবরাহ করা হয়েছিল। চিনের ডংগুয়ানে ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ওই ক্যামেরা সক্রিয় হয়। তবে সংস্থাটি দাবি করেছে যে, তারপর ওই ক্যামেরা কাদের হাতে কী ভাবে পৌঁছেছিল, সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। তাদের দাবি, এই ক্যামেরা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একমাত্র চিন প্রশাসনই দিতে পারবে। নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পরই চিনের সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর আদালতে আবেদন করে এনআইএ।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের কাছে মিনি সুইৎজারল্যান্ড নামে পরিচিত বৈসারন উপত্যকায় নারকীয় হত্যালীলা চালায় জঙ্গিরা। স্থানীয় এক টাট্টু ঘোড়ার চালক-সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এই তালিকায় ছিলে নিরীহ পর্যটকরা। এই জঙ্গি হামলার দায়ে শিকার করেছিল লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন টিআরএফ। বৈসারনের জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়।