ইসলাম মতে নিকাহ নাকি বিশেষ আইনি বিবাহ? ওমর আবদুল্লাহ ও নিধি রাজদানের বিয়ে নিয়ে বড় তথ্য!
হিন্দু কাশ্মীরি পণ্ডিত নিধি রাজদানের সঙ্গে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্য়মন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। হিন্দু-মুসলিম এই বিয়ে কীভাবে সম্পন্ন হল? সামনে এল তথ্য।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নিধি রাজদান-এর বিয়ে ঘিরে দেশজুড়ে যে তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল, এবার তার আইনি রূপরেখা নিয়ে এল বড়সড় তথ্য। মুসলিম রীতিনীতি মেনে নিকাহ নাকি স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট (Special Marriage Act)? কীভাবে সম্পূর্ণ হলো এই হেভিওয়েট জুটির বিবাহপ্রক্রিয়া, তা নিয়ে সমস্ত ধোঁয়াশা কেটে গেল।

দিল্লিতে স্পেশাল ম্যারেজ কোর্টে আইনি বিবাহ:
সূত্র মারফত জানা গেছে, ওমর ও নিধির এই বিবাহপ্রক্রিয়া ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ‘নিকাহ’-এর মাধ্যমে নয়, বরং দিল্লির বিশেষ বিবাহ আদালতে (Special Marriage Court) সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম স্ত্রী পায়েল আবদুল্লাহর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচ্ছেদ নিশ্চিত হওয়ার পরেই, দুজনে গত আগস্ট ২০২৬-এ স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় আবেদন নথিভুক্ত করা হয়।
আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ ও প্রতীক্ষা পর্বের পর সেপ্টেম্বরেই বিশেষ আদালত তাঁদের এই বিয়েতে চূড়ান্ত আইনি সায় দেয়।
রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বিতর্ক এড়ানোর বার্তা:
ওমর আবদুল্লাহর এই বিয়ে ও দিল্লি-শ্রীনগরের উদযাপনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্স (JKNC)-এর প্রদেয় অবস্থানও যথেষ্ট স্পষ্ট। এনসি-র প্রাদেশিক সভাপতি শওকত আহমেদ মীর এই বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এটি একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। প্রতিটি মানুষেরই নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার রয়েছে এবং এর সাথে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই।
তিন মাসের ব্যবধানে অতীত থেকে নতুন ভোরের গল্প:
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩১ জুলাই সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে ওমর ও তাঁর প্রথম স্ত্রী পায়েলের ১৭ বছরের পুরোনো আইনি লড়াইয়ের ইতি ঘটেছিল। বিচ্ছেদের মাত্র ৩ মাসের মাথায় এবং সম্পূর্ণ আইনি পথ অনুসরণ করে দিল্লির স্পেশাল ম্যারেজ কোর্টের মাধ্যমে নিধি রাজদানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন ওমর।
স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৪ কী?
বিশেষ বিবাহ আইন বা ‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৪’ (Special Marriage Act, 1954) হলো ভারতীয় সংবিধান ও আইন ব্যবস্থার এমন একটি বিশেষ দেওয়ানি বিধান, যা ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের পার্থক্য ভুলে যেকোনো দুজন পূর্ণবয়স্ক নাগরিককে আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অধিকার দেয়। এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য কোনো পক্ষকেই নিজের ধর্ম পরিবর্তন করতে হয় না বা কোনো ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে হয় না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, যেমন—ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে বিয়ের আবেদন জমা দেওয়া, ৩০ দিনের নোটিশ জারি করা এবং তিনজনের উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রি ও স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শকে রক্ষা করার পাশাপাশি আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃজাতি দম্পতিদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ ও সন্তানের আইনি অধিকার নিশ্চিত করাই এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


