নজরে জাতীয় রাজনীতি? বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভার পথে নীতীশ: Report
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট অর্থাৎ এনডিএ এবার দাপুটে জয় পেয়েছিল। কার্যত দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি-সহ ইন্ডিয়া জোট।
বিহারে নতুন সরকার গড়ার বছর ঘোরেনি। কিন্তু তারমধ্যেই সে রাজ্যের বিরাট পালাবদলের ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে সম্ভবত ফের জাতীয় রাজনীতির দিকে যেতে চলেছেন নীতীশ কুমার। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো নিয়ে চলছে জোরাল আলোচনা চলেছে। এদিকে, তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসাবে তাঁর অবর্তমানে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হচ্ছে নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে। অন্যদিকে, বিজেপি থেকে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার কথাও জোরালোভাবে আলোচনায়। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক মডেল চালু রেখেছেন নীতীশ কুমার। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি গত প্রায় ২০ বছর কোনও বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেননি। তবুও বারবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ তাঁর হাতেই থেকেছে। ২০০৫ সালের নভেম্বর থেকে, মাত্র কয়েক মাস বাদ দিলে, টানা বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকেছেন তিনি। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার আবর্তিত হয়েছে বিহারকে কেন্দ্র করেই। তবে বারবার শিবির বদল করার কারণে রাজনৈতিক মহলে তাঁকে ‘দলবদলু’ বা ‘পাল্টিরাম’ তকমাও দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কখনও এনডিএ, তো কখনও বিরোধী মহাগঠবন্ধন, নিজের সুবিধামতো জোট বদলেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বিহারের মাটি থেকে সরিয়ে নীতীশ কুমারকে সোজা রাজ্যসভায় নিয়ে আসার এই ভাবনা বিজেপির অন্যতম বড় কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক কারবারিরা।
এদিকে, নীতীশ কুমার যদি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েন, সেক্ষেত্রে বিজেপি কী নিজেদের কোনও মুখকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করবে নাকি জেডিইউ-র সঙ্গেই জোট বেঁধে থাকবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্টতা নেই। বলে রাখা ভালো, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট অর্থাৎ এনডিএ এবার দাপুটে জয় পেয়েছিল। কার্যত দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি-সহ ইন্ডিয়া জোট। প্রচারে নীতীশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে রাখা হয়। আর সেই কৌশল সফল হয়। এনডিএ জোটের প্রধান দল ভারতীয় জনতা পার্টি এককভাবে ৮৯টি আসন জিতে রাজ্যের বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। আর তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জনতা দল ইউনাইটেড পেয়েছিল ৮৫টি আসন। এমনকী জোটের অন্যান্য দল লোক জনশক্তি পার্টি পেয়েছিল ১৯টি আসন, হিন্দুস্তানি আওয়ামী মোর্চা পেয়েছিল ৫টি আসন এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা পেয়েছিল ৪টি আসন। তাই এনডিএ জোটের ভিত যে মজবুত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে নীতীশ কুমারের পদত্যাগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সবটাই সময়ের উপর নির্ভর করবে।
E-Paper











