বিহারে নিশান্ত অধ্যায়ের সূচনা! উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন নীতীশ-পুত্র? রাজস্যভার মনোনয়ন...
পেশায় ইঞ্জিনিয়ার নিশান্ত কুমার এতদিন রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন। ৭৫ বছর বয়সি নীতীশ কুমার বরাবরই পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির বিরোধী, তাই এতদিন নিশান্ত সক্রিয় রাজনীতিতে আসেননি।
বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জনতা দল ইউনাইটেডে (জেডিইউ) যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমার। পাটনার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করেন তিনি। বিহারে যখন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নীতীশ কুমারের ইস্তফা দেওয়ার জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই ছেলে নিশান্ত কুমারের রাজনৈতিক উত্থান পাটলিপুত্রে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

এদিন জেডিইউর সদস্য হওয়ার পরই, নিশান্ত কুমার দলীয় নেতাদের বলেছেন, 'আমি একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দলের দেখাশোনা করার চেষ্টা করব। আমার বাবা রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং আমি তা মেনে নিচ্ছি। আমরা তাঁর নির্দেশ অনুযায়ীকাজ করব। আমি দল এবং জনগণের আস্থা অর্জন করার এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করব।' রাজ্যসভায় প্রার্থী হয়েছেন জনতা দলের (ইউনাইটেড) প্রধান তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। জমা দিয়েছেন মনোনয়নও। খুব শীঘ্রই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন নীতীশ। সেই ফাঁকেই ছেলেকে রাজনীতিতে এনে জোট শরিক বিজেপিকে কোনও বার্তা দিলেন কী এই বর্ষীয়ান নেতা? উঠছে প্রশ্ন।
পেশায় ইঞ্জিনিয়ার নিশান্ত কুমার এতদিন রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন। ৭৫ বছর বয়সি নীতীশ কুমার বরাবরই পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির বিরোধী, তাই এতদিন নিশান্ত সক্রিয় রাজনীতিতে আসেননি। তবে এবার নীতীশ কুমার তাঁর ছেলেকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। জেডিইউ-এর বর্ষীয়ান নেতারা নিশান্তের এই রাজনীতিতে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁদের মতে, এটি দলের কর্মীদের ইচ্ছারই প্রতিফলন। নিশান্ত কুমারের রাজনীতিতে আসা এবং জেডিইউ-তে যোগদানের সময় থেকেই নতুন এক জল্পনা তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে রাজ্যসভায় চলে যাওয়ার পর, নতুন সরকারে নিশান্ত কুমারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। এই পরিবর্তনের পর বিহারে প্রথমবারের মতো বিজেপির নিজস্ব কোনো নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দলে যোগ দেওয়ার আগে শনিবার নিশান্ত কুমার জেডিইউ-এর সিনিয়র নেতা এবং তরুণ বিধায়কদের সঙ্গে পরপর দুটি বৈঠক করেন। দিনের শেষে, তিনি জেডিইউ- র জেডিইউ-র জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা-এর বাসভবনে আবার দলের জেলা সভাপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দ্বিতীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ‘লালন’ও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালের জুনে জেডিইউ-র সাধারণ সম্পাদক পরম হংস কুমার নিশান্তকে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের এবং রাজ্যের স্বার্থে নিশান্তের সামনে এসে দায়িত্ব নেওয়া উচিত। পরম হংসের দাবি ছিল, নিশান্ত অত্যন্ত শান্ত ও দূরদর্শী ব্যক্তি। তাঁর মতে, 'নিশান্তজি অত্যন্ত বিনয়ী এবং তিনি একজন প্রভাবশালী যুব নেতা হয়ে উঠতে পারেন।' অন্যদিকে এদিন নিশান্ত কুমার প্রসঙ্গে সঞ্জয় ঝা বলেন, 'দল আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেবে যে তাঁর ভূমিকা কী হবে। এটি নীতীশজির দল এবং এটি তাঁর ২০ বছরের কাজের উত্তরাধিকার বহন করে।' তিনি আরও বলেন, 'যদিও তিনি (নীতীশ) রাজ্যসভায় যান, তবুও বিহার সরকার ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে কাজ করবে।' এদিকে, নীতীশ রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিতেই একযোগে জেডিইউ এবং বিজেপিকে কটাক্ষ করছে বিরোধী লালু প্রসাদ যাদবের দল আরজেডি। তাদের বক্তব্য, ভেনেজুয়ালার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যেভাবে অপহরণ করে ক্ষমতাচ্যূত করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেই কায়দাতেই নীতীশকে ‘রাজনৈতিক অপহরণ’ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
E-Paper

