ECI on INDIA Bloc Protest: সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বাধ্য নয় নির্বাচন কমিশন! ইন্ডিয়া জোটের অচলাবস্থার নেপথ্যের আইন ও প্রটোকল

ECI on INDIA Bloc Protest: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে নির্বাচন কমিশন অভিযান করে ইন্ডিয়া জোট। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মিছিলে পা মেলান সম্মিলিত বিরোধী জোটের সাংসদরা।

Published on: Oct 7, 2026, 15:35:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ECI on INDIA Bloc Protest: দিনভর টানাপোড়েন। প্রথমে বিরোধী সাংসদদের নির্বাচন কমিশন অভিযান। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা, কাজ না হওয়ায় ধরনা, শেষে সাংসদদের আটক করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে মঙ্গলবার রীতিমতো হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটালেন রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Bloc Protest) সাংসদরা। তবে বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে সংসদ ভবন অ্যানেক্সে (Parliament House Annexe) বৈঠক করার আর্জি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে প্রোটোকল অনুযায়ী এই ধরনের বৈঠক কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের হওয়া সম্ভব।

সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বাধ্য নয় নির্বাচন কমিশন! ইন্ডিয়া জোটের অচলাবস্থার নেপথ্যের আইন ও প্রটোকল (ANI Video Grab)
সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বাধ্য নয় নির্বাচন কমিশন! ইন্ডিয়া জোটের অচলাবস্থার নেপথ্যের আইন ও প্রটোকল (ANI Video Grab)

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টের আগে কোনও রাজনৈতিক দলই কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের অনুরোধ জানায়নি। পরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সাংসদদের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক ও একটি স্মারকলিপির অনুরোধ জানায়। প্রোটোকলের কথা উল্লেখ করে কমিশন সংসদ ভবনে বৈঠকটি করতে অস্বীকৃতি জানায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে নির্বাচন কমিশন অভিযান করে ইন্ডিয়া জোট। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মিছিলে পা মেলান সম্মিলিত বিরোধী জোটের সাংসদরা। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে-সহ জোটের শীর্ষ নেতারা। শেষে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। বাধা পেয়ে কমিশনের উলটো দিকে আকাশবাণী ভবনের সামনে ধরনায় বসেন বিরোধী সাংসদরা। দিনভর ধরনার পর সন্ধে নাগাদ জোরপূর্বক সেই ধরনা তুলে দেয় দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় রাহুল গান্ধী-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীদের। ঘণ্টা দুই বাদে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার ধরনা প্রত্যাহারের জন্য বিরোধী সাংসদরা শর্ত দিয়েছিলেন, যে তাঁরা কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। নিজেদের হাতে জ্ঞনেশ কুমারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিতে চান। দিনের শেষ নির্বাচন কমিশনের তরফে দাবি করা হল রাহুল গান্ধীরা যে সব দাবিগুলি করেছিলেন সেগুলি বেমক্কা, অস্বাভাবিক, মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এক বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, 'সংবাদমাধ্যমে আমরা খবর পাই বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু বিকাল চারটে পর্যন্ত তাঁদের কোনও প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাননি। আজ বিকেল ৪টার পর, নির্বাচন কমিশন যখন মাননীয় সাংসদদের সঙ্গে উল্লিখিত বৈঠকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করছিল, তখন দিল্লি পুলিশের ডিসিপি কমিশনকে জানান যে, প্রস্তাবিত বৈঠকটি ২৪০ জন সাংসদের একটি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং এর প্রস্তাবিত স্থান হলো সংসদ ভবন অ্যানেক্স। নির্বাচন কমিশন এই অনুরোধটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে এবং তাই এটি গ্রহণ করতে পারেনি, কারণ নির্বাচন কমিশনের প্রোটোকল অনুযায়ী, এই ধরনের বৈঠক শুধুমাত্র ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রাঙ্গণেই অনুষ্ঠিত হয়।'

নির্বাচন কমিশন জানায়, ২০২৫ সালেই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী কোনও দল বা একাধিক দলের যৌথ প্রতিনিধিদলকে তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। এরপর উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটাও মানা হয়নি। তাই এই দাবি মানা অসম্ভব ছিল। কমিশন বিকল্প প্রস্তাব দেয় যে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ডিউটি অফিসারকে বৈঠকের নির্ধারিত স্থানে পাঠিয়ে সাংসদদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা যেতে পারে। কমিশনের দাবি, এটিও একটি 'অভূতপূর্ব' পদক্ষেপ হত। কিন্তু সাংসদরা সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। কমিশন জানিয়েছে, তারা দেশের সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নিজেদের প্রোটোকল ও রীতিনীতি—দুটিকেই গুরুত্ব দেয়। কমিশনের বক্তব্য, যে কোনও রাজনৈতিক দল যে কোনও সময় কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করতে পারে। কমিশন সময়ের সুবিধা অনুযায়ী বৈঠকের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে—এটাই নিয়মিত প্রক্রিয়া।