'তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংসের স্যুপ খান!' উঃ কোরিয়ার নাগরিকদের নিদান কিম প্রশাসনের
North Korea Heatwave: উত্তর কোরিয়ায় কুকুরের মাংসের স্যুপ ‘দাঙ্গোগি গুক’ বা ‘মিষ্টি মাংসের স্যুপ’ নামে পরিচিত। বহু বছর ধরে সে দেশের সরকার এটিকে গ্রীষ্মকালের ঐতিহ্যবাহী ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে প্রচার করে আসছে।
North Korea Heatwave: চরম দুর্ভিক্ষের সময়ে ফ্রান্সের রানি মারি আঁতোয়ানেত রুটি না পাওয়ায় প্রজাদের কেক খেতে বলেছিলেন। এবার ঠিক তেমনই নিদান দিলেন উত্তর কোরিয়ার (North Korea) স্বৈরশাসক কিম জং উন। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নাগরিকদের সুস্থ থাকতে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সে দেশের শাসকদল ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র 'রোডং সিনমুন' (Rodong Sinmun) এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে গরম মোকাবিলায় এই খাবারের সুপারিশ করেছে।

হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট' (এসসিএমপি)-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি তীব্র দাবদাহে জ্বলেপুড়ে একাকার উত্তর কোরিয়ার একাধিক দ্বীপের বাসিন্দারা। গরম থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার রাস্তা খুঁজে চলেছেন সাধারন মানুষ। আর তাদের পরিত্রাণের নিদান হিসেবে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র। সম্প্রতি পত্রিকাটিতে গ্রীষ্মকালীন স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে কুকুরের মাংসের স্যুপকে তীব্র গরমের মরশুমের জন্য উপযুক্ত ও 'অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের (Pyongyang General Hospital) এক সিনিয়র চিকিৎসকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নিবন্ধটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে হিট এক্সহস্টশন ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং হাইপারথাইরয়েডিজম-সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে সুস্থ রাখতে তরমুজ, শসা ও মুগ ডালের পাশাপাশি কুকুরের মাংসের স্যুপ, মাছের জাউ (পোরিজ) এবং লাল শিমের জাউয়ের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন এমন পরামর্শ দেওয়া হল?
উত্তর কোরিয়ায় কুকুরের মাংসের স্যুপ ‘দাঙ্গোগি গুক’ বা ‘মিষ্টি মাংসের স্যুপ’ নামে পরিচিত। বহু বছর ধরে সে দেশের সরকার এটিকে গ্রীষ্মকালের ঐতিহ্যবাহী ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে প্রচার করে আসছে। ধারণা করা হয়, গরম আবহাওয়ায় এটি শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এ খাবারের বিশেষায়িত রেস্তোরাঁও রয়েছে। এমনকী প্রতি বছর এই খাবারকে ঘিরে রন্ধন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উত্তর কোরিয়ার প্রাক্তন কূটনীতিক রি চোল 'দিস উইক ইন এশিয়া'কে জানান, দাঙ্গোগি সে দেশে বেশ জনপ্রিয় হলেও এর দাম তুলনামূলক বেশি এবং অনেক সাধারণ নাগরিকের নাগালের বাইরে। সাধারণত প্রচণ্ড গরমের দিনে ক্লান্তি দূর করার জন্য অনেকেই এই খাবার খেয়ে থাকেন।
গত ২৭ জুলাই থেকে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। সে দেশের আবহাওয়া অধিদফতর ইতিমধ্যে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে এবং কোথাও কোথাও তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পিয়ংইয়ং, উত্তর পিয়ংগান, জাগাং প্রদেশের কিছু অংশ এবং বেশ কয়েকটি মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার জন্য পৃথকভাবে সতর্কতা জারি করেছে।
উত্তর কোরিয়ায় গ্রীষ্মের সবচেয়ে উষ্ণ সময় কুকুরের মাংস খাওয়ার একটি পুরোনো সাংস্কৃতিক বিশ্বাস রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ ধরনের খাবার শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনে এবং অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে সাহায্য করে। যদিও এ দাবির পক্ষে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় (South Korea) তীব্র তাপপ্রবাহ চললেও তারা হেঁটেছে সম্পূর্ণ বিপরীত পথে। ২০২৪ সালে এক ঐতিহাসিক আইন পাসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া কুকুর পালন, জবাই এবং মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিন বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হলে অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৩ কোটি ওন জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
E-Paper

