Cockroach Janta Party's protest: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি! এবার ‘থালা-চামচ’ নিয়ে বিক্ষোভে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি
Cockroach Janta Party's protest: ২০২০ সালের ২৪ মার্চ দিনটি মনে আছে? ওই দিনেই দেশজুড়ে জারি হয়েছিল লকডাউন। লকডাউন ঘোষণার দু’দিন আগে, ২২ মার্চ বিকেল ৫টায় ৫ মিনিটের জন্য সকল দেশবাসীকে ছাদে, বারান্দা বা জানালায় দাঁড়িয়ে থালা বা ঘণ্টা বাজাতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
Cockroach Janta Party's protest: দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ‘থালা’ ও ‘চামচ’ সঙ্গে আনার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ২০২০ সালের কোভিড-র সময় প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশবাসীকে ‘থালা বাজানোর’ সেই সুপরিচিত আহ্বানকেই এবার নিজেদের হাতিয়ার করেছে সিজেপি। তবে এবার আর সংহতি নয়, বরং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেই এই থালা-চামচ বাজানোর অভিনব রাজনৈতিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে তারা।

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আগামীকালের যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যারা অংশ নেবে, তারা সবাই একটি থালা ও একটি চামচ সঙ্গে নিয়ে আসবেন। এরপর কী করতে হবে, তা সবাই জানেন।’
২০২০ সালের ২২ মার্চ ও সিজেপি
২০২০ সালের ২৪ মার্চ দিনটি মনে আছে? ওই দিনেই দেশজুড়ে জারি হয়েছিল লকডাউন। করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতেই জারি হয়েছিল লকডাউন। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপরে জারি করা হয় বিধিনিষেধ। লকডাউন ঘোষণার দু’দিন আগে, ২২ মার্চ বিকেল ৫টায় ৫ মিনিটের জন্য সকল দেশবাসীকে ছাদে, বারান্দা বা জানালায় দাঁড়িয়ে থালা বা ঘণ্টা বাজাতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীরা অক্ষরে অক্ষরে সেই কথা মেনেও ছিলেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সকলকে সম্মান জানাতেই এই কাজ করতে বলেছিলেন তিনি। এবার সেই উদ্যোগকে হাতিয়ার করেই সিজেপি জানিয়েছে, ২০ জুন দুপুর ১টায় শুরু হওয়া এ বিক্ষোভের জন্য তারা দিল্লি পুলিশের অনুমতি পেয়েছে। আন্দোলনকারীরা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করবেন। ইতিমধ্যে সেখানে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য যন্তর মন্তরের ভেতরে ও চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
এটি যন্তর মন্তরে সিজেপি-র দ্বিতীয় বিক্ষোভ কর্মসূচি। এর আগে ৬ জুন সেখানে আন্দোলন হয়। এছাড়া পুনে, লখনউ, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও জয়পুর-সহ বিভিন্ন শহরেও সিজেপি বিক্ষোভ করেছে। এদিকে, শনিবার বিক্ষোভের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘আজ খুব দুঃখের সঙ্গে আপনাকে চিঠি লিখতে হচ্ছে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এবার ভাবার সময় এসেছে।’ দীপকের দাবি, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির দায়ে গত কয়েকদিনে ১১ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে শেষে ৪৮ ঘণ্টাতেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আবারও নিটের পরীক্ষা দেওয়ার মানসিক চাপে আরও চিন্তিত পড়ুয়ারা।' তাঁর আরও দাবি, ‘নিজেদের ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য নিজেদের সর্বস্ব খরচ করেছেন বাবা-মায়েরা। অথচ সেই পড়ুয়াই প্রাণ হারাচ্ছে অব্যবস্থার জন্য। ওই পরিবারগুলিকে অন্তত এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত সরকারের।'
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতার সাফ কথা, 'আমরা সেই প্রথম থেকে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি করছি। দেখুন আমরা শুধু চাই দায়বদ্ধতা। আর দায়বদ্ধতা ঠিক করার প্রথম ধাপই হল শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা।' অভিজিতের সাফ কথা, 'আমরা করুণ স্বরে অনুরোধ করছি, শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন।'
E-Paper

