Oldest living tree: পিরামিডের চেয়েও পুরনো! পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন জীবন্ত গাছ কোনটি? আয়ু কত
Oldest living tree on earth Methuselah: পৃথিবীর বুকে বর্তমানে বেঁচে থাকা সবচেয়ে প্রবীণ বা বয়স্ক গাছটি মিশরের বিখ্যাত গিজার পিরামিডের (Pyramids of Egypt) চেয়েও বেশি সময় ধরে টিকে রয়েছে! মানব ইতিহাসের উত্থান-পতন, সাম্রাজ্যের ধ্বংস এবং যুগের পরিবর্তনকে সাক্ষী রেখে আজও বেঁচে আছে মহাজাগতিক জীবন্ত ফসিলটি।
Bristlecone pine California age: আমাদের এই পৃথিবীতে এমন কিছু জীবন্ত বিস্ময় রয়েছে, যা মানুষের তৈরি যেকোনো প্রাচীন স্থাপত্যের চেয়েও পুরনো। মানব সভ্যতার ইতিহাস যখন কেবল ডানা মেলতে শুরু করেছে, তখন থেকেই এই পৃথিবীর বুকে সগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি প্রাচীন উদ্ভিদ।

পৃথিবীর বুকে বর্তমানে বেঁচে থাকা সবচেয়ে প্রবীণ বা বয়স্ক গাছটি মিশরের বিখ্যাত গিজার পিরামিডের (Pyramids of Egypt) চেয়েও বেশি সময় ধরে টিকে রয়েছে! মানব ইতিহাসের উত্থান-পতন, সাম্রাজ্যের ধ্বংস এবং যুগের পরিবর্তনকে সাক্ষী রেখে আজও বেঁচে থাকা এই মহাজাগতিক জীবন্ত ফসিল এবং তার নেপথ্যের বিজ্ঞান জেনে নিন।
আজকের ২০২৬ সালের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে আমরা যখন মানুষের তৈরি স্কাইস্ক্র্যাপার বা স্থাপত্য নিয়ে বড়াই করি, তখন ক্যালিফোর্নিয়ার এক দুর্গম পর্বতমালা আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির আসল ক্ষমতা। ক্যালিফোর্নিয়ার হোয়াইট মাউন্টেনসের (White Mountains) এক গোপন স্থানে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক এই গাছটি।
মেথুসেলাহ: ইতিহাসের এক জীবন্ত মহাকাব্য
বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন গাছটির নাম দিয়েছেন ‘মেথুসেলাহ’ (Methuselah)। এটি আসলে একটি ‘গ্রেট বেসিন ব্রিসলকোন পাইন’ (Great Basin Bristlecone Pine) প্রজাতিভুক্ত গাছ। বোটানিস্ট বা উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের নিখুঁত গণনা এবং কার্বন ডেটিং পদ্ধতি অনুযায়ী, এই গাছটির বর্তমান বয়স ৪,৮৫০ বছরেরও বেশি!
মিশরের সবচেয়ে পুরনো পিরামিড, অর্থাৎ রাজা জোসারের স্টেপ পিরামিড যখন তৈরি হয়েছিল, এই গাছটি তারও কয়েকশো বছর আগে পৃথিবীর মাটিতে নিজের শিকড় গেড়েছিল। রোমান সাম্রাজ্যের উত্থান, যিশু খ্রিস্টের জন্ম কিংবা সিন্ধু সভ্যতার বিলুপ্তি—সবকিছুই এই গাছটির জীবনকালের চোখের পলকে ঘটে গেছে।
কীভাবে এই গাছটি এত দীর্ঘ সময় বেঁচে রইল?
চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও মেথুসেলাহ কীভাবে হাজার হাজার বছর ধরে বেঁচে রয়েছে, তা বিজ্ঞানীদের গবেষণার এক বড় বিষয়। এর পেছনের রহস্যগুলো হলো:
- ধীরগতির বৃদ্ধি (Slow Growth Rate): এই গাছটি অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ে। এর ফলে এর কাঠ অত্যন্ত ঘন, শক্ত এবং রেজিনযুক্ত (Resinous) হয়। এই ঘন কাঠের কারণে কোনো ক্ষতিকর পোকা, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস গাছের ভেতরের অংশকে পচাতে বা নষ্ট করতে পারে না।
- অনুকূল কিন্তু চরম পরিবেশ: হোয়াইট মাউন্টেনসের আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক, ঠাণ্ডা এবং ঝোড়ো। মাটিও খুব একটা উর্বর নয়। সাধারণ গাছের জন্য এই পরিবেশ যমদূত হলেও ব্রিসলকোন পাইনের জন্য এটিই শাঁখ দিয়ে বর নেওয়ার মতো। কারণ এই চরম পরিবেশে অন্য কোনো বড় গাছ বা আগাছা জন্মাতে পারে না, যা মেথুসেলাহর পুষ্টি ও জলের ভাগ কেড়ে নেবে।
- শিকড় ও পাতার দীর্ঘায়ু: এই গাছের পাতা বা সুইয়ের মতো সূক্ষ্ম অংশগুলো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত সতেজ থাকে। ফলে গাছটিকে নতুন করে পাতা গজানোর জন্য বারবার অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে হয় না। এমনকি গাছের বেশিরভাগ অংশ মরে গেলেও সামান্য একটি জীবিত শিকড়ের ওপর ভর করে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকতে পারে।
এক গোপন রহস্য ও সুরক্ষা
এই গাছটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগ (US Forest Service) ক্যালিফোর্নিয়ার সেই বনের মধ্যে মেথুসেলাহর প্রকৃত অবস্থানটি প্রকাশ করে না। এর কারণ হলো পর্যটকদের কোলাহল এবং মানুষের দ্বারা এই প্রাচীন প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষতিসাধন রোধ করা। অতীতে মানুষের অসচেতনতার কারণে আরেকটি প্রাচীন ব্রিসলকোন পাইন (প্রমিথিউস) কাটা পড়েছিল, তাই মেথুসেলাহকে বাঁচাতে এই কড়া নিরাপত্তা।
মেথুসেলাহ নামের এই প্রাচীন পাইন গাছটি কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এটি প্রকৃতির এক রিলেন্টলেস বা অক্লান্ত টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক। মানুষের তৈরি বড় বড় অট্টালিকা ও পিরামিড যেখানে সময়ের সাথে সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে, সেখানে প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র সৃষ্টি আজও নতুন করে সবুজ ডালপালা মেলছে, যা আমাদের প্রকৃতির সামনে মাথা নত করতে বাধ্য করে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


