Omar Abdullah on Indus Water Treaty: 'নিজেদের নদীর উপরই নিয়ন্ত্রণ ছিল না', পাক হুমকির মাঝে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ওমর

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই পাকিস্তান বারবার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই ওমর আবদুল্লার মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Published on: Jul 9, 2026, 09:40:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সিন্ধু জলচুক্তি চর্চায় ফের নতুন মাত্রা যোগ করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর দাবি, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি কখনওই জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেনি। বরং এটি ছিল রাজ্যের মানুষের সঙ্গে হওয়া সবচেয়ে বড় অবিচারগুলির একটি। তাঁর কথায়, এই চুক্তির ফলে ভারতের নিজের নদীগুলির উপরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

সিন্ধু জলচুক্তি চর্চায় ফের নতুন মাত্রা যোগ করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
সিন্ধু জলচুক্তি চর্চায় ফের নতুন মাত্রা যোগ করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই পাকিস্তান বারবার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই ওমর আবদুল্লার মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এক সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের যুদ্ধের হুমকি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ওমর আবদুল্লা বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে কোনও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, চুক্তিটি কেবল স্থগিত রাখা হয়েছে, কিন্তু পাকিস্তানের দিক থেকেই ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ওমর আবদুল্লা বলেন, শুরু থেকেই তাঁর দল সিন্ধু জলচুক্তির বিরোধিতা করে এসেছে। কারণ, তাঁদের বিশ্বাস ছিল এই চুক্তির মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির জল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বহু সীমাবদ্ধতা ছিল, যা স্থানীয় মানুষের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এদিকে, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের তরফেও কড়া প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, সিন্ধু নদীর জলের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত। তাঁর দাবি, এই চুক্তি নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।

শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কোর কমান্ডারদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য জল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও সম্প্রতি বলেন, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করতে পারে না। তাঁর দাবি, এই চুক্তি এখনও আইনগতভাবে কার্যকর এবং বাধ্যতামূলক। কোনও পক্ষের একতরফা সিদ্ধান্তে এটি বাতিল বা স্থগিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ভারত নিজেদের অবস্থানে অনড়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি জানিয়েছেন, সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ধারাবাহিক মদতের জবাব হিসেবেই সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী এবং তার উপনদীগুলির জল বণ্টন ও ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারিত হয়। গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে জলবণ্টনের ভিত্তি হিসেবে এই চুক্তি কার্যকর ছিল। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে এই চুক্তি এখন নতুন করে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More