Punjab News: 'পাতাললোক থেকেও...,' মাদকবিরোধী কর্মী পারবিন্দর সিং ঝোটার হত্যাকাণ্ডে হুঁশিয়ারি অমিত শাহ'র
Punjab News: মঙ্গলবার পাঞ্জাবে নিহত পারবিন্দর সিং ঝোটার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অমিত শাহ।
Punjab News: পাঞ্জাবে অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে খুন হওয়া মাদকবিরোধী কর্মী পারবিন্দর সিং ঝোটার (Parvinder Singh Jhota) হত্যাকারীদের 'পাতাললোক থেকেও খুঁজে বের করবে সিবিআই'—মঙ্গলবার এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পঞ্জাবে মাদক পাচারের বিরোধিতার জেরে প্রাণ হারানো তিন ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার পাঞ্জাবে নিহত পারবিন্দর সিং ঝোটার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অমিত শাহ। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'পাতাললোক থেকেও অপরাধীদের খুঁজে বের করব।' একই সঙ্গে ঝোটা হত্যা মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-র হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অমিত শাহ আরও বলেন, বাকি দুটি ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে যদি রাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি অনুযায়ী সেই দুটি মামলার তদন্তভারও সিবিআই-কে দেওয়া যেতে পারে।
এদিকে, অমিত শাহের পাঞ্জাব সফরের কয়েক ঘণ্টা আগেই মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ঘোষণা করেন যে সরকার পারবিন্দর সিং ঝোটা হত্যা মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাঞ্জাবে ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে রাজ্যকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল—সাংবাদিক সম্মেলনে আম আদমি পার্টি (AAP) সরকারকে এভাবেই তীব্র আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আবেগ তাড়িত হয়ে বলেন, তিনটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি যে গভীর ব্যাথা অনুভব করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি আরও করেন, 'সংবাদপত্রে আপনারা যা পড়েন, মাটিতে দাঁড়িয়ে দেখলে বোঝা যায় পরিস্থিতি তার চেয়েও বহুগুণ বেশি ভয়াবহ।' আম আদমি পার্টির সরকারের কাছে এই মর্মান্তিক মৃত্যুগুলির কোনও জবাব নেই এবং দলের কর্মীদের এই ব্যর্থতার জন্য লজ্জা পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ।
পারবিন্দর সিং ঝোটা মানসা ও তার আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কেমিস্টের দোকান থেকে অবৈধভাবে নেশাদ্রব্য ও মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার মানসার (Mansa) একটি মেডিকেল স্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে ওই দোকানদারকে জেরা করছিলেন পারবিন্দর। পুরো ঘটনাটি তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ করছিলেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, পারবিন্দরের সঙ্গে এক প্রবীণ ব্যক্তিও রয়েছেন, যিনি দাবি করেছিলেন যে, তিনি ওই দোকান থেকেই মাদক কিনেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দোকানদারের হাতে একটি পিস্তল রয়েছে এবং দু’জনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি চলছে। পারবিন্দরকে বলতে শোনা যায়— 'মার মুঝে, মার মুঝে' (আমাকে মারো, আমাকে মারো)। এছাড়া তিনি দোকানদারকে প্রশ্ন করেন কেন তিনি পিস্তল রেখেছেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের পুলিশকে ডাকতে এবং লোক জড়ো করতে বলেন। দোকানদারকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতেও বলা হয়। তর্ক চলাকালীনই হঠাৎ দোকানদার গুলি চালিয়ে দেন, যা সরাসরি পারবিন্দরের গায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই পারবিন্দরের মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে যায় এবং ফেসবুক লাইভ বন্ধ হয়ে যায়।
ফেসবুকে ২৪ হাজারের বেশি ফলোয়ার থাকা পারবিন্দর এর আগে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্রিং ও ভিডিও ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে বেশ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রথম খবরের শিরোনামে এসেছিলেন, যখন এক মেডিকেল স্টোর মালিকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাঁধে। সেই বছরের ১২ জুলাই ওই ঘটনায় ঝোটা ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মারধর, অনধিকার প্রবেশ এবং হিংসার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ওই সময় তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল এবং প্রায় দুই মাস পর তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। এই হত্যাকাণ্ডের পর পাঞ্জাবের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে মাদক ব্যবসা ও তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
E-Paper

