দু'মাস পরেই ছিল বিয়ে, তার আগেই ইউক্রেনে রুশ মিসাইল হামলায় মৃত্যু কেরলের যুবকের

রবিবার ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দেওয়ার সময় গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি গোল্ডেন লিও-তে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ওই হামলায় মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাবিক। আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয়, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Published on: Jul 21, 2026, 16:12:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ছিলেন কেরলের ২৬ বছরের অখিল জয়ন। মাত্র তিন মাস আগে তাঁর বাগদান হয়েছিল। আর দু'মাস পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই যুদ্ধ কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। অখিলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কেরলের কাসারগোড় জেলার ভেলারিক্কুন্ডুর ছোট্ট গ্রামে।

ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ছিলেন কেরলের ২৬ বছরের অখিল জয়ন। (HT_PRINT)
ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ছিলেন কেরলের ২৬ বছরের অখিল জয়ন। (HT_PRINT)

রবিবার ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দেওয়ার সময় গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি গোল্ডেন লিও-তে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ওই হামলায় মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাবিক। আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয়, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অখিল জয়ন ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবা একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকান চালাতেন এবং মা বীমা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি অনেক কষ্ট করে নতুন বাড়ি তৈরি করেছিলেন তাঁরা। পরিবারের প্রধান ভরসা ছিলেন অখিলই। তাঁর উপার্জনের উপরই অনেকটাই নির্ভর করত সংসার।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শোভি জোসেফ জানিয়েছেন, আলাপ্পুঝার এক তরুণীর সঙ্গে অখিলের বাগদান হয়েছিল তিন মাস আগে। মাত্র এক মাস আগে তিনি আবার জাহাজে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সব ঠিক থাকলে আর দু'মাস পরেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন যুদ্ধের আগুনে শেষ হয়ে গেল।

জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট শিপিং সংস্থার একটি ই-মেলের মাধ্যমে পরিবারের কাছে অখিলের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁরা স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কের সাহায্য চেয়েছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়েছিলেন অখিল। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সমুদ্রপথে কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, ছেলের বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।

জাহাজটি পরিচালনা করছিল মুম্বই-ভিত্তিক ওশেন গ্রেস শিপিং লিমিটেড। ইউক্রেনের অভিযোগ, ওডেসা বন্দর ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার জেরে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং বহু নাবিক প্রাণ হারান। ঘটনার পর কেরল সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর নরকা (NORKA)-কে রাশিয়ার কনস্যুলেট এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের সব ধরনের সাহায্য করার চেষ্টা করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহত ভারতীয় নাবিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে কেন্দ্র।

যুদ্ধের বলি হওয়া অখিল জয়নের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, যুদ্ধ শুধু সীমান্তেই নয়, নিরীহ সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বপ্নও কেড়ে নেয়। দু'মাস পর যে যুবকের মাথায় বিয়ের পাগড়ি ওঠার কথা ছিল, আজ তাঁর বাড়িতে শুধুই শোকের মাতম।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More