Salim Dola: বহু বছর গা ঢাকা দিলেও একটি পার্সেল ডেলিভারিই ‘কাল’ ডেকে আনে দাউদ ঘনিষ্ঠ সলিমের, ইস্তানবুলে কীভাবে পাকড়াও?
How Salim Dola captured: দোলা চিরকালই পর্দার আড়াল থেকে নিজের কারবার চালাত। ফলত, তাকে কেউ কখনও সেভাবে দেখেনি কোথাও, যার ফলে তার ডেরা খুঁজে পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল।
গত দেড় বছর ধরে কার্যত ‘অদৃশ্য’ ছিল দাউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা মাদক পাচারের কুখ্যাত নাম সলিম দোলা। কারোর সঙ্গে যোগাযোগ নয়, কোথাও দেখা যেত না তাকে, কার্যত তার ডেরা খুঁজে পাওয়াই দায় ছিল। এই পরিস্থিতিতেও তুরস্কের বুকে গা ঢাকা দেওয়া সলিম দোলাকে খুঁজে বের করে ইন্টারপোলের সাহায্যে হাতে পেয়েছে ভারতীয় এজেন্সিগুলি। এই সলিম দোলাই বহু বছর ধরে ভারতের জন্য ‘ওয়ান্টেড’ ছিল।

দাউদের আন্তর্জাতিক পরিকাঠামোয় দোলা একটি বড় নাম। সে শুধু যে মাদক পাচারের কিংপিং ছিল তা নয়, পাশাপাশি ডি কম্পানির ফান্ডিংয়ের দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল। মুম্বইয়ের ডোংরির ভূমিপুত্র সলিম দোলা, তার কারবার ছড়িয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপে। সোনা পাচার, হাওয়ালা লেনেদেন সবেতেই সলিম দোলা বড় নাম ছিল। দোলা চিরকালই পর্দার আড়াল থেকে নিজের কারবার চালাত। ফলত, তাকে কেউ কখনও সেভাবে দেখেনি কোথাও, যার ফলে তার ডেরা খুঁজে পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল।
এককালে আরব আমিরশাহি থেকে কাজ চালাত দোলা। পরে ভারত ও আমেরিশাহির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হতেই দোলার মতো মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাজের ক্ষেত্রে বেশ চাপ হয়! ফলে নিজের ডেরা তৈরি করতে তুরস্কে চলে যেতে হয় দোলাকে। কারবার সেখান থেকেই চালাত দোলা। পাকিস্তানের প্রতিবেশি তথা পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ তুরস্কে এরপর গা ঢাকা দিয়ে থাকা শুরু করে সলিম দোলা। ইস্তানবুল শহরটি ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং আফ্রিকায় প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, যা এটিকে মাদক পাচার এবং আর্থিক প্রবাহ উভয়ের জন্যই একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
এনডিটিভির-র রিপোর্ট বলছে, বিগত দেড় বছর ধরে ইস্তানবুলে একটি বাড়িতেই নিজেকে আটকে রেখেছিল সলিম দোলা। কোথাও বের হত না সে, কারোর সঙ্গে সোজাসুজি দেখা সাক্ষাৎ করত না। ফলত, তার হদিশ মেলা মুশকিল ছিল। এরই মধ্যে তুরস্কে বুলগেরিয়ান পাসপোর্ট ও হামজা নাম নিয়ে থাকতে শুরু করেছিল সে। পরে তার বাড়ি থেকে দুটি ভারতীয় পাসপোর্টও উদ্ধার হয়েছে।
২০২৪ সালে দোলার নামে ইন্টারপোল রেড নোটিস ছিল। এরফলে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তাকে আটক করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু দোলাকে খুঁজতে সাহায্য করে একটি কুরিয়ার পার্সেল! পার্সেল যায় সেই জায়গায় যেখানে দোলা থাকে। ফলত, তার ডেরা বের হয়ে যায়। যে ব্যক্তি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাইরের জগতের সঙ্গে সব ধরনের সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছিল, তার জন্য এটি ছিল বাইরের জগতের সঙ্গে একটি বিরল ও শনাক্তযোগ্য ঘটনা ছিল। আর দেরি করতে হয়নি তদন্তকারীদের। তাঁরা পেয়ে যান লিড! তদন্তকারীরা বুঝে যান দোলা ইস্তানবুলেই রয়েছে। এরপর তুরস্কের আইন প্রণয়নকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভারতীয় তদন্তকারীরা। পাকড়াও হয় দোলা। তাকে নিয়ে আসা হয় ভারতে।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


