নয়া সুবিধা শুধু কর্মরত অগ্নিবীরদের! নতুন নিয়োগে চার বছরের নিয়মই বহাল রাখল কেন্দ্র
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, গত চার বছরে অগ্নিবীরদের কাজের মূল্যায়ন ইতিবাচক। তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং কাজের প্রতি আগ্রহ সেনাবাহিনীর নজর কেড়েছে। অতিরিক্ত দু'বছরের চাকরির জন্য বেশি বেতন, উন্নত সেবা নিধি এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার সুবিধাও দেওয়া হবে।
অগ্নিপথ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। চার বছরের বদলে ছয় বছর পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন বর্তমানে কর্মরত অগ্নিবীরদের একাংশ। কিন্তু এই সুবিধা এখনই নতুন নিয়োগপ্রার্থীদের জন্য নয়। কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর যাঁরা অগ্নিপথ প্রকল্পে যোগ দেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত পুরনো চার বছরের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, বর্তমানে কর্মরত অগ্নিবীরদের জন্য নিয়মে পরিবর্তন এলেও নতুন প্রজন্মের নিয়োগপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে চার বছরের চুক্তিভিত্তিক চাকরির কাঠামোই বজায় রাখছে সরকার। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের বক্তব্যের সূত্রে এই বিষয়টি সামনে এসেছে।

২০২২ সালের ১৪ জুন অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা এবং নৌসেনায় চার বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রকল্পে নিযুক্তদের নাম দেওয়া হয় অগ্নিবীর। নিয়ম অনুযায়ী, চার বছরের মেয়াদ শেষে সর্বাধিক ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে স্থায়ী ভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হত। বাকিদের চাকরি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হত। এই ব্যবস্থা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে চার বছর পর চাকরির নিশ্চয়তা না থাকা নিয়ে ক্ষোভ ছিল চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের।
সম্প্রতি সেই নিয়মে পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ৪ নভেম্বর ক্যাবিনেটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, চার বছরের মেয়াদ শেষে যে ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীর স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ পাবেন না, তাঁদের আরও দু'বছর সেনাবাহিনীতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, তাঁদের চাকরির মেয়াদ হবে মোট ছয় বছর। এই অতিরিক্ত দু'বছরের পর সংশ্লিষ্ট অগ্নিবীরদের স্থায়ী সেনাকর্মী হিসাবে নিয়োগের সুযোগ থাকবে। তবে তার জন্য তাঁদের স্বেচ্ছায় চাকরি চালিয়ে যেতে হবে এবং শারীরিক সক্ষমতা, কাজের মূল্যায়ন ও অন্যান্য নির্বাচনী শর্ত পূরণ করতে হবে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে বর্তমানে কর্মরত প্রায় তিন লক্ষ অগ্নিবীর উপকৃত হতে পারেন। মোট ন'টি ব্যাচের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। প্রথম চার বছর শেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ২৫ শতাংশ অগ্নিবীর আগের নিয়মেই স্থায়ী সেনাকর্মী হবেন। বাকি ৭৫ শতাংশ আরও দু'বছর কাজ করবেন। তার পর তাঁদের স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে আর আগের মতো ২৫ শতাংশের সীমা থাকবে না। তবে স্থায়ী নিয়োগ স্বয়ংক্রিয় নয়। সংশ্লিষ্ট অগ্নিবীরের ইচ্ছা, শারীরিক সক্ষমতা এবং শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড বিবেচনা করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন ও পুরনো অগ্নিবীরদের মধ্যে নিয়মের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর নতুন করে যাঁরা অগ্নিপথ প্রকল্পে যোগ দেবেন, তাঁদের জন্য আপাতত চার বছরের চুক্তিই থাকবে। ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের নিয়োগের নিয়ম পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকেরা। অর্থাৎ, ছয় বছরের চাকরির ব্যবস্থা এখনই স্থায়ী ভাবে গোটা অগ্নিপথ প্রকল্পে চালু হচ্ছে না।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, গত চার বছরে অগ্নিবীরদের কাজের মূল্যায়ন ইতিবাচক। তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং কাজের প্রতি আগ্রহ সেনাবাহিনীর নজর কেড়েছে। অতিরিক্ত দু'বছরের চাকরির জন্য বেশি বেতন, উন্নত সেবা নিধি এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার সুবিধাও দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে অগ্নিপথ প্রকল্পে নতুন ও পুরনো নিয়োগপ্রার্থীদের জন্য আলাদা নিয়ম চালু হল। বর্তমানে কর্মরতদের জন্য স্থায়ী সেনাকর্মী হওয়ার পথ আরও প্রসারিত হলেও নতুনদের ক্ষেত্রে চার বছরের চাকরির কাঠামোই আপাতত বহাল থাকছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


