Opposition Protest on LPG Issue: 'সংসদে নেই নরেন্দ্র, দেশে নেই সিলিন্ডার', এলপিজি সংকট নিয়ে প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা
কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা সংসদের মকর গেটের কাছে জড়ো হন এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সামনে বিরোধী সাংসদরা 'মোদীজি এলপিজি' স্লোগান দেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে রান্নার গ্যাস সংকটের আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদে কংগ্রেস-সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল আজ সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি এই সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দায়ী করেছেন। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা সংসদের মকর গেটের কাছে জড়ো হন এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সামনে বিরোধী সাংসদরা 'মোদীজি এলপিজি' স্লোগান দেন। এর পরে, রাহুল গান্ধী এক্সে ছবি শেয়ার করার সময় প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। রাহুল লেখেন, 'নরেন্দ্র সংসদে নিখোঁজ, দেশ থেকে সিলিন্ডার নিখোঁজ'।

সংসদের বাইরেও বিরোধী সাংসদরা গ্যাস সিলিন্ডারের আকারে প্ল্যাকার্ড বহন করেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও এই বিক্ষোভে যোগ দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলছেন যে জ্বালানি সংকট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, তবে তিনি নিজে বিভিন্ন কারণে আতঙ্কিত হচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে অন্য কারণে নার্ভাস। আদানি কেস, 'এপস্টেইন ফাইল'-এর কারণে তিনি নার্ভাস।'
এদিকে ইতিমধ্যেই ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দেশে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তেল শোধনাগার এবং বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাগুলিকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের উৎপাদন সর্বোচ্চ সম্ভাব্য স্তরে বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে গ্যাসের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভারতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার জন্য আরও একধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম না বাড়লেও বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। এদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে চালু হয়েছে নয়া নিয়ম। এখন থেকে ২৫ দিন অন্তর অন্তর সিলিন্ডারের বুকিং করা যাবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব। এদিকে ভারতের ক্ষেত্রে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা সম্ভব। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে দেশ।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১২.৮ মিলিয়ন টন দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত হয়েছিল। বাকি গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল দেশে। এদিকে আমদানি করা গ্যাসের মধ্যে থেকে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এসেছিল আরব দেশগুলি থেকে। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ থাকায় সেই গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করেছে সরকার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


