All-Party Meeting: স্বীকৃতির আগেই কেন দলত্যাগীদের আমন্ত্রণ? NCPI-কে নিয়ে ক্ষোভ, সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউট বিরোধীদের
All-Party Meeting: মাসখানেক আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন জানান। তাঁরা পৃথক দলের স্বীকৃতির জন্য স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদনও করেছেন।
All-Party Meeting: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল সর্বদল বৈঠকে। নতুন দল এনসিপিআই (ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া)-এ যুক্ত হওয়া দলত্যাগী সাংসদদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা। প্রতিবাদস্বরূপ তাঁরা বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন। যদিও পুরো ঘটনাটিকে ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ বলে অভিহিত করে পরে বৈঠকে ফিরে যান বিরোধীরা। ফলে বাদল অধিবেশন যে এনডিএ-র বিরুদ্ধে বিরোধীদের সুর চড়তে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল প্রথম দিনেই।

মাসখানেক আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন জানান। তাঁরা পৃথক দলের স্বীকৃতির জন্য স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদনও করেছেন। স্পিকার এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না জানালেও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু শনিবারই এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে যোগ দেওয়ার চিঠি পাঠান। শনিবার রাতে সংসদের তরফে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেখানে তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের কথাই উল্লেখ ছিল, তবে দলত্যাগী ওই ২০ জন সাংসদ যে আলাদা আসনে বসবেন, তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। রবিবার সকাল ১১টায় সংসদের অ্যানেক্স ভবনে সর্বদল বৈঠক শুরু হতেই যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘাওয়াল ওই নতুন এনসিপিআই সাংসদদের স্বাগত জানান, তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধীরা।
বৈঠক শুরু হতেই এই আমন্ত্রণের তীব্র বিরোধিতা করেন মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়-সহ তৃণমূল সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, স্পিকার এখনও এনসিপিআই-কে আলাদা দল হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেননি। অথচ স্বীকৃতির আগেই কোন ভিত্তিতে সরকার পক্ষ তাঁদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাল? এই প্রশ্ন তুলে মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হয়ে বৈঠক ছাড়েন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, সিপিআই এবং শিবসেনার (উদ্ধব শিবির) সাংসদেরা। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের আপত্তি হলো, সংসদের ওয়েবসাইটে যার নামই নেই, এমন একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা হয়েছে।’ অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ একটি পোস্ট করে লিখেছেন, 'সর্বদলীয় বৈঠক থেকে সমস্ত বিরোধী দল কয়েক মিনিটের জন্য ওয়াকআউট করে। স্পিকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে থাকা সত্ত্বেও, মোদী সরকার এনসিপিআই-কে আমন্ত্রণ জানানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।' সঙ্গেই এনসিপিআই-কে 'পার্কিং প্লেস' হিসেবে উল্লেখ করে, সেই প্রসঙ্গে লিখেছেন, 'এনসিপিআই হল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল।' জয়রাম রমেশের এই পোস্ট শেয়ার করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ, ডেরেক ও'ব্রায়েন। লিখেছেন 'ইউনাইটেড অপজিশন।'
সংসদের বাইরে মহুয়া মৈত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-সহ গোটা বিরোধী জোট সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে। কারণ তথাকথিত এনসিপিআই একটি অস্বীকৃত দল। সংসদের টেবিল অফিসের তালিকায় এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮ দেখানো হয়েছে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার দাবি করছেন, কিন্তু এখনও স্পিকার তা অনুমোদন করেননি।’ এদিকে, বিদ্রোহী সাংসদ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাই এসেছি। নতুন দলকে প্রতিনিধিত্ব করছি আমরা। আমাদের মতে, সংসদ বিরোধীদের। এটা স্বীকৃতি দিতে হবে। সরকারকেও এটা স্বীকৃতি দিতে হবে এবং সংসদ যাতে সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়। আমাদের দলের নীতি হল ধর্ম নিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য। আমাদের এনসিপিআই এই নীতিতেই বিশ্বাসী। আমাদের ২০ জন সাংসদের মধ্যে তিনজন মুসলিম।'
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই যেভাবে দলত্যাগীদের কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্ব দিল, তাতেই ক্ষুব্ধ বিরোধী শিবির। আর এই ‘এনসিপিআই’ বিতর্ককে অস্ত্র করেই যে বাদল অধিবেশনে মোদী সরকারকে চেপে ধরতে চলেছে বিরোধীরা, তা রবিবারের সর্বদল বৈঠকের ছবিতেই পরিষ্কার হয়ে গেল।
E-Paper

