Jamui Groping Horror Update: জামুই কাণ্ডে বড় পুলিশি পদক্ষেপ, মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবের পায়ে গুলি
ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের সময় গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর পায়ে গুলি লাগে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিহারের জামুইয়ে নাবালিকা ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের সময় গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর পায়ে গুলি লাগে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের সময় নন্দন পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময়ই গুলি চালানো হয়। একই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত হরেরাম যাদবকেও ধরতে গিয়ে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নন্দন যাদবকে হেফাজতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি দল অভিযান চালায়। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তখনই পুলিশ গুলি চালায় এবং তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই ভাবে হরেরাম যাদবও পুলিশের হাত এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁকেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এদিনের অভিযানের পর এই মামলার তদন্ত আরও দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জামুইয়ের এই ঘটনা সামনে আসে কয়েকটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়া কোচিং থেকে ফেরার পথে একটি পাহাড়ি এলাকা ঘুরে বাড়ি ফিরছিল। সেই সময় একদল যুবক তাঁদের পথ আটকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। দু’জনকেই ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ, হেনস্তা এবং মারধর করা হয়। ঘটনার একটি অংশ মোবাইলে রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
প্রকাশ্যে আসা ভিডিওগুলিতে দুই কিশোর-কিশোরীকে ঘিরে কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, কিশোরীকে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গী কিশোরকেও মারধর করা হয়েছিল। ঘটনার সময় তাঁদের বারবার ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ভিডিও খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। পরে এই ঘটনায় সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রথম দফায় কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়।
জামুই পুলিশ এই ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-ও গঠন করেছে। তদন্তকারীরা ভিডিও ফুটেজ, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাবালিকা জড়িত থাকায় পকসো আইনের ধারাতেও তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিহারে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলিও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ঘটনাটির নিন্দা করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্য বিরোধী নেতারাও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
জামুইয়ের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এখন পুলিশের সামনে মূল লক্ষ্য হল মামলার সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আনা। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলির উৎস ও ব্যবহার নিয়েও তদন্ত চলছে। নাবালিকাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জামুইয়ের এই ঘটনা তাই এখন শুধুমাত্র একটি অপরাধের মামলা নয়, নারী ও শিশু নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


