France Protests: ফ্রান্সের রাজপথ দখল বিক্ষোভকারীদের! পুলিশের কাঁদানে গ্যাস-জলকামান, উত্তপ্ত প্যারিস

France Protests: লিওঁ, ক্লেরমঁ-ফেরঁ ও স্ত্রাসবুর্গে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নিস ও নঁতে শহরে ব্যবহার করা হয় জলকামান। মার্সেইয়ে মিছিলের শেষ প্রান্তের কাছে কয়েক ডজন মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

Updated on: Oct 24, 2026, 23:24:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

France Protests: গত সপ্তাহের পর শনিবার ফের ফ্রান্স জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। স্কুলগুলির জন্য তহবিলে ঘাটতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে ফ্রান্সের সাধারণ জনতার মনে। তার প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ। প্যারিসে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

ফ্রান্সের রাজপথ দখল বিক্ষোভকারীদের! পুলিশের কাঁদানে গ্যাস-জলকামান, উত্তপ্ত প্যারিস (AP Photo/Jean-Francois Badias)
ফ্রান্সের রাজপথ দখল বিক্ষোভকারীদের! পুলিশের কাঁদানে গ্যাস-জলকামান, উত্তপ্ত প্যারিস (AP Photo/Jean-Francois Badias)

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন ৪ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন ১ লক্ষ ১০ হাজার। গত সপ্তাহে দেশটিতে ব্যাপক হিংসা ও লুটপাটের ঘটনার এক সপ্তাহ পর নতুন করে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। প্যারিসে মিছিলটি শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে শেষ গন্তব্য পোর্ত দে ভাঁসেনে পৌঁছানোর কাছাকাছি সময়ে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে থাকেন বলে অভিযোগ। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। গত সপ্তাহের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো থেকে বিক্ষোভকারীদের দূরে রাখতে মিছিলের পথ শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে নির্ধারণ করেছিল কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, লিওঁ, ক্লেরমঁ-ফেরঁ ও স্ত্রাসবুর্গে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নিস ও নঁতে শহরে ব্যবহার করা হয় জলকামান। মার্সেইয়ে মিছিলের শেষ প্রান্তের কাছে কয়েক ডজন মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। প্যারিসের প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪০ জনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বেশির ভাগের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকা কিংবা সহিংসতা বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের প্রস্তুতি নেওয়া দলের সদস্য হওয়ার সন্দেহ রয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ক্ষমতা ও নেতৃত্বের জন্য এই বিক্ষোভ বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। আগামী মে মাসে দেশটির ভোটাররা তার উত্তরসূরি নির্বাচন করবেন। এ পরিস্থিতিতে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি সরকারকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে মানুষের ক্ষোভকে ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের সহায়তায় হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়। গত মাসে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মীসংকটের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত পরিবেশের দাবিতে এবং কর্মীরা বেশি মজুরি ও পেনশনের দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন। ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফ্রান্সের সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় মোট ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ঘণ্টার পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় নির্ধারিত পাঠদানের ৭.৫ শতাংশ সম্পন্ন করা যায়নি। অন্যদিকে, দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ। এর ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১ শতাংশে।

শুক্রবার উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ঘোষণা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এদিকে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সংগঠকেরা আগামী ৩১ অক্টোবর আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাদের দাবি, বিক্ষোভ করার অধিকার রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।