Pakistani Sindhi brides: অপারেশন সিঁদুরের পর বন্ধ সীমান্ত! ভিসার বাধা পেরিয়ে ভারতে উড়ে এলেন ১৫০ পাক-কনে

Pakistani Sindhi brides: জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্তপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।

Published on: Aug 24, 2026, 17:55:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Pakistani Sindhi brides: অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছিল সীমান্তের ওপারে থাকা বহু পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনেও। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত। ভিসা জটিলতায় আটকে গিয়েছিল বহু বিয়ের পরিকল্পনা। সেই পরিস্থিতিতেই শেষ পর্যন্ত বিকল্প পথে ভারতে পৌঁছলেন পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের অন্তত ১৫০ জন তরুণী, যাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে।

ভিসার বাধা পেরিয়ে ভারতে উড়ে এলেন ১৫০ পাক-কনে (Representational image).
ভিসার বাধা পেরিয়ে ভারতে উড়ে এলেন ১৫০ পাক-কনে (Representational image).

নাগপুরের সিন্ধি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাজেশ ঝামবিয়া জানিয়েছেন, প্রায় ১৫০ জন তরুণীর বিয়ে নাগপুর, রায়পুর, যোধপুর, পুণে-সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে হওয়ার কথা ছিল। সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা দীর্ঘদিন পাকিস্তানেই আটকে ছিলেন। পরে তাঁদের পরিবারের তরফে বিকল্প উপায়ে ভারতে আসার চেষ্টা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের ঘোটকি এলাকার শাদানি দরবার। ওই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানির উদ্যোগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিয়ের জন্য ভারতে আসতে চাওয়া তরুণী ও তাঁদের পরিবারের তালিকা পাঠানো হয়। তাঁদের ভিসা দেওয়ার জন্যও আবেদন জানানো হয়।

এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতি মেলে। তবে সরাসরি ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে নয়, আকাশপথে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই মতো গত এপ্রিল থেকে প্রায় ১৫০ জন পাক তরুণী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের হয়ে ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছেছেন। এই যাত্রাপথ ছিল দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল। কিন্তু বহু পরিবারের কাছে মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করা। নাগপুর-সহ ভারতের একাধিক শহরে ইতিমধ্যেই এই তরুণীদের বিয়ের আয়োজন হয়েছে। রাজেশ ঝামবিয়া বলেন, আরও প্রায় ৩০০ জন পাকিস্তানি তরুণী এখনও ভারতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের জন্যও ভিসা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্তপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভারতে বিয়ের জন্য আসার অপেক্ষায় থাকা পাকিস্তানি সিন্ধি তরুণীদের অনেকেরই ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক যখন এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, তখন এই ঘটনাটি সীমান্তের রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের আর একটি দিক সামনে এনেছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিয়ের মতো ব্যক্তিগত সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে তৃতীয় দেশের পথ বেছে নিয়েছেন বহু পরিবার।