Pak-Afghan War: ইদ শেষ হতে না হতেই ফের শুরু যুদ্ধ, পাক শেলিংয়ে নিহত ২ আফগান, জবাবে ৩ সামরিক চৌকি ধ্বংসের দাবি তালিবানের

অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপই ২৫ মার্চ আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে। এতে কমপক্ষে দুজন সাধারণ আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

Published on: Mar 26, 2026, 09:51:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইদ শেষ হতে না হতেই ফের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে। আফগান তালিবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপই ২৫ মার্চ আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে। এতে কমপক্ষে দুজন সাধারণ আফগান নাগরিক নিহত ও অন্য আরও একাধিক জন আহত হয়েছেন। ইদের জন্যে উভয় পক্ষই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিল এর আগে।

অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপই ২৫ মার্চ আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে। (AFP)
অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপই ২৫ মার্চ আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে। (AFP)

আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক জিয়াউর রহমান স্পিনঘর বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই পাকিস্তানি বাহিনী নারাই ও সারকানো জেলায় কয়েক ডজন আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে দুই নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনী পাল্টা গুলি চালিয়ে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে। তারা পাকিস্তানের তিনটি সামরিক চৌকি ধ্বংস করেছে এবং একজনকে হত্যা করেছে বলে দাবি করে আফগান কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।

পরে গত ১ মার্চ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে নূর খান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল তালিবান। ড্রোন দিয়ে পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। নূর খান ছাড়াও বালোচিস্তানের কোয়েট্টায় অবস্থিত পাক সেনার ১২তম ডিভিশনের সদর দফতরে হামলা চালানোর দাবি করেছে তালিবান। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় মহমন্দ এজেন্সির খাওয়াজি ক্যাম্পেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তানের আরও একাধিক সামরিক স্থাপনা এবং কমান্ড সেন্টারে আফগানিস্তানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে দাবি করে তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর আগে আফগানিস্তানের জালালাবাদে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে তালিবান। সেই ঘটনায় এক পাক পাইলটকে আটক করার দাবি জানিয়েছিল তালিবান। এরপরে রমজানের সময় কাবুলের এক হাসপাতালে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০০ জন রোগীকে হত্যা করেছিল পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সংঘাত নতুন করে শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে। এবং এখনও তা চলছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More