Pakistan Air Defence Update: অপারেশন সিঁদুরে ফেল, এবার চিন-তুরস্কের নয়া অস্ত্রে এয়ার ডিফেন্স ঢেলে সাজাচ্ছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দিবসের অনুষ্ঠানের সময় নতুন কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রকাশ্যে এনেছে পাকিস্তান বায়ুসেনা। তার মধ্যে রয়েছে চিনের এইচকিউ-১৭এ পরিবারের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং তুরস্কের কোরকুট ৩৫ মিলিমিটার স্বয়ংচালিত বিমান বিধ্বংসী কামান।
অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষার বেহাল দশা প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। ভারতের হামলায় পাকিস্তানের একাধিক এয়ার ডিফেন্স রাডার এবং সামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এ বার নতুন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাজাতে নেমেছে ইসলামাবাদ। আর সেই কাজে ভরসা করতে হচ্ছে চিন ও তুরস্কের অস্ত্রের উপর।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দিবসের অনুষ্ঠানের সময় নতুন কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রকাশ্যে এনেছে পাকিস্তান বায়ুসেনা। তার মধ্যে রয়েছে চিনের এইচকিউ-১৭এ পরিবারের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং তুরস্কের কোরকুট ৩৫ মিলিমিটার স্বয়ংচালিত বিমান বিধ্বংসী কামান। অর্থাৎ, ভারতের হামলায় পুরনো ব্যবস্থার দুর্বলতা ধরা পড়ার পর এবার কাছাকাছি আকাশ পাহারায় নতুন অস্ত্র বসানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
অপারেশন সিঁদুরে কী হয়েছিল?
২০২৫ সালের ৮ মে ভারত জানিয়েছিল, পাকিস্তানের একাধিক জায়গায় থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এবং ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। লাহোরের একটি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও সেই হামলার আওতায় ছিল বলে জানিয়েছিল ভারত।
এরপর উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণেও পাকিস্তানের কয়েকটি জায়গায় সামরিক এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে আসে। পসরুর, চুনিয়ান এবং আরিফওয়ালার মতো এলাকাতেও রাডার ও এয়ার ডিফেন্স পরিকাঠামোয় ক্ষতির কথা বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসে।
সেই সময় পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন অস্ত্র প্রদর্শনের পরে সেই প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে। ব্যঙ্গের সুরে বললে, আকাশ পাহারার পুরনো ব্যবস্থা যদি সত্যিই এতটাই ‘অভেদ্য’ হত, তা হলে এত তাড়াতাড়ি নতুন ঢাল নামানোর প্রয়োজন পড়ত কি?
চিনের এইচকিউ-১৭এ, এবার নয়া পাহারা
পাকিস্তান যে নতুন ব্যবস্থাটি দেখিয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে চিনের এইচকিউ-১৭এ পরিবার। এটি স্বল্পপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা নিচু ও মাঝারি উচ্চতায় উড়তে থাকা যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলার জন্য তৈরি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে পাকিস্তানের দেখানো ব্যবস্থাটিকে রফতানি সংস্করণ এইচকিউ-১৭এই হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মূল কাজ হল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনাকে কাছ থেকে রক্ষা করা। অর্থাৎ দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা পেরিয়ে কোনও লক্ষ্য যদি আরও কাছে চলে আসে, তখন তাকে ঠেকানোর জন্য এই ব্যবস্থা কাজে লাগতে পারে।
তুরস্কের কোরকুটও নামল মাঠে
শুধু চিন নয়, পাকিস্তান এবার তুরস্কের উপরও নির্ভর করছে। প্রদর্শিত হয়েছে কোরকুট ৩৫ মিলিমিটার স্বয়ংচালিত বিমান বিধ্বংসী কামান। তুরস্কের আসেলসান তৈরি এই ব্যবস্থা মূলত কাছাকাছি দূরত্বে আকাশ থেকে আসা লক্ষ্যবস্তু ঠেকানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ড্রোনের মতো নিচু দিয়ে উড়ে আসা লক্ষ্য মোকাবিলায় এই ধরনের কামান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একদিকে চিনের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, অন্যদিকে তুরস্কের কামান—দুটি ব্যবস্থাকে মিলিয়ে পাকিস্তান একটি ‘শেষ মুহূর্তের’ প্রতিরক্ষা স্তর তৈরি করতে চাইছে।
ভারতীয় হামলার পরেই কেন এত তৎপরতা?
অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, আকাশ প্রতিরক্ষার কোন জায়গাগুলি দুর্বল এবং কী ভাবে তা মেরামত করা যায়। ভারতের হামলায় যদি সত্যিই একাধিক রাডার এবং এয়ার ডিফেন্স সাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তা হলে ইসলামাবাদের জন্য শুধু নতুন অস্ত্র কেনাই নয়, পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ভাবে সাজানো জরুরি। সেই কারণেই এবার স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষার দিকে বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অস্ত্র কিনলেই আকাশ সুরক্ষিত নয়
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নতুন অস্ত্র সামনে আনলেই পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা হঠাৎ অপ্রতিরোধ্য হয়ে যাবে—এমনটা বলা যায় না। একটি আধুনিক এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা কামান থাকলেই হয় না। দরকার শক্তিশালী রাডার, দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান, কমান্ড ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মোকাবিলা এবং বিভিন্ন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়। এইচকিউ-১৭এ এবং কোরকুট দুটিই মূলত কাছাকাছি এলাকার প্রতিরক্ষা জোরদার করতে পারে। দূরপাল্লার হামলা ঠেকানোর পুরো দায়িত্ব এই দুটি ব্যবস্থার হাতে দেওয়া সম্ভব নয়।
কতগুলি কিনেছে পাকিস্তান?
এখনও পাকিস্তান প্রকাশ্যে জানায়নি, তারা ঠিক কতগুলি এইচকিউ-১৭এ বা কোরকুট ব্যবস্থা কিনেছে। কোথায় কতগুলি মোতায়েন করা হয়েছে, সেটাও স্পষ্ট নয়। চিনের ব্যবস্থাটির সঠিক সংস্করণ নিয়েও বিভিন্ন রিপোর্টে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন অস্ত্র প্রদর্শন করলেও পাকিস্তানের গোটা আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা বদলেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন করে বিনিয়োগ করছে।
ভারত বনাম পাকিস্তান, পরের লড়াই প্রযুক্তির
ভারতের নির্ভুল হামলার অভিজ্ঞতার পর পাকিস্তান এখন নিজের দুর্বল জায়গাগুলি ঢাকার চেষ্টা করছে। চিনের ক্ষেপণাস্ত্র আর তুরস্কের কামান নিয়ে সেই চেষ্টাই চোখে পড়ছে। ব্যঙ্গ করে বললে, অপারেশন সিঁদুর যদি পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্সের ‘পরীক্ষা’ হয়ে থাকে, তা হলে সেই পরীক্ষার পরে ইসলামাবাদ নতুন করে খাতা-কলম নিয়ে বসেছে। এবার চিন-তুরস্কের অস্ত্র দিয়ে সেই পুরনো ভুল শুধরে নেওয়া যায় কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ পরের সংঘাতে শুধু অস্ত্র থাকলেই হবে না—সেগুলি ভারতীয় নজরদারি, বৈদ্যুতিন যুদ্ধ এবং নির্ভুল আঘাতের সামনে কতটা কার্যকর হয়, আসল পরীক্ষা হবে সেখানেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


