Pakistan Airstrike in Afghanistan: হুথিদের হুমকির মাঝেই আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, মক্কা চুক্তি এড়ানোর কৌশল?

এই হামলার সময়কাল নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। কারণ, একই সময়ে পাকিস্তানকে ঘিরে আর একটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ালে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হুথি নেতাদের বক্তব্য, পাকিস্তান যদি ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরবের হয়ে সরাসরি নামে, তা হলে তার ফল ভুগতে হবে।

Published on: Sep 21, 2026, 11:58:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Pakistan Airstrike in Afghanistan: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের বড় উত্তেজনা। সোমবার আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সরকারের দাবি, হামলায় অন্তত ৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। পাকিস্তানের বক্তব্য অবশ্য আলাদা। ইসলামাবাদের দাবি, তারা আফগানিস্তানে জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। দুই দেশের বক্তব্যে তাই বড় ফারাক রয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের বড় উত্তেজনা।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের বড় উত্তেজনা।

এই হামলার সময়কাল নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। কারণ, একই সময়ে পাকিস্তানকে ঘিরে আর একটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ালে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হুথি নেতাদের বক্তব্য, পাকিস্তান যদি ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরবের হয়ে সরাসরি নামে, তা হলে তার ফল ভুগতে হবে।

এখানেই সামনে আসছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি। ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ক মক্কায় এই চুক্তি সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। পাকিস্তান অবশ্য স্পষ্ট করেছে, এই চুক্তি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে তৈরি হয়নি।

কিন্তু হুথিদের সৌদি-বিরোধী হামলা বাড়তে থাকায় চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আগেই জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের উপর হামলা চলতে থাকলে মক্কা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তানকে কোনও না কোনওভাবে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইসলামাবাদ নিজেই কথা বলেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। পাকিস্তান কি একই সময়ে নিজের জন্য অন্য একটি নিরাপত্তা ফ্রন্ট খুলছে? নাকি আফগান সীমান্তের সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে ইসলামাবাদ এখন সেখানে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে?

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। তালিবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের উপর একাধিক হামলার পর কাবুলের বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ।

অন্য একটি ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনালের উদ্ধৃত নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, তালিবান হুথিদের মাধ্যমে পাকিস্তানকে ইয়েমেনের সংঘাতে টেনে নিতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য নাকি পাকিস্তানের সামরিক নজর আফগান সীমান্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া। এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে পাকিস্তানের সামনে যে একসঙ্গে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর চুক্তি কার্যকর করার চাপের মুখে পাকিস্তান কি আফগান সীমান্তকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের সামরিক ব্যস্ততার ক্ষেত্র বাড়াচ্ছে? এই মুহূর্তে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে আফগানিস্তানে হামলা মক্কা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পিত কৌশল। বরং প্রকাশ্য তথ্য বলছে, সীমান্ত জঙ্গিবাদ এবং নিরাপত্তা হুমকিই পাকিস্তানের ঘোষিত কারণ।

তবে বাস্তবতা হল, পাকিস্তান এখন একসঙ্গে দুই দিকের চাপে রয়েছে। একদিকে আফগান সীমান্ত। অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। মক্কা চুক্তি সেই চাপকে আরও জটিল করেছে। ফলে ইসলামাবাদ কোন ফ্রন্টে কতটা সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, সেটাই এখন নজরে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More