Pakistan Army Latest Update: ইয়েমেনে পাকিস্তানের অস্ত্র, সৌদিতে সেনা! চাপের মুখে হুথি দমনে ইসলামাবাদ?
এখনও পর্যন্ত রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীকে ইয়েমেনের মাটিতে সরাসরি যুদ্ধ করতে পাঠানোর কথা সামনে আসেনি। বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনি বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই জোর রয়েছে।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক হুথিরা আরও বেশি এলাকা দখল করতে সক্ষম হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়ে সামরিক সহযোগিতার জন্য হাত বাড়াল পাকিস্তান। তবে সেই সহযোগিতার ধরন নিয়ে এখনই সবচেয়ে বেশি আলোচনা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে করে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইয়েমেনের এডেনে। সেখানে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন ঠেকানোর সরঞ্জাম। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করছেন পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও।

তবে এখনও পর্যন্ত রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীকে ইয়েমেনের মাটিতে সরাসরি যুদ্ধ করতে পাঠানোর কথা সামনে আসেনি। বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনি বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই জোর রয়েছে। এই পদক্ষেপের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। লোহিত সাগরের উপকূল ধরে হুথিদের সাম্প্রতিক আগ্রাসনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তাইজ প্রদেশে একাধিক ফ্রন্টে লড়াই চলছে। হুথিদের লক্ষ্যগুলির মধ্যে তাইজ শহর ঘিরে সরকারি বাহিনীর অবস্থান দুর্বল করা এবং তাইজ থেকে এডেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থল যোগাযোগে চাপ তৈরি করা রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। গত কয়েক দিনে সরকারি বাহিনী হুথিদের অবস্থান, রসদকেন্দ্র এবং সামরিক পরিকাঠামোয় বিমান হামলাও চালিয়েছে। ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্টের হিসাবে, তাইজে সাম্প্রতিক এক পর্যায়ে অন্তত ৭৫টি বিমান হামলার তথ্য মিলেছে।
এডেন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণও স্পষ্ট। এডেন আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অস্থায়ী রাজধানী এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অন্য দিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সৌদি আরব পরিস্থিতি বদলাতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান নিয়ে ভাবছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে এবং এক লক্ষের বেশি ইয়েমেনি সেনা তাতে যুক্ত হতে পারে।
সৌদি পরিকল্পনায় এক দিকে বাব আল-মান্দেব এবং লোহিত সাগরের উপকূল পুনর্দখলের কথা রয়েছে। অন্য দিকে আল বায়দা, মারিব, তাইজ এবং আল জাওফে একসঙ্গে অভিযান চালানোর বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে। স্থলযুদ্ধের মূল দায়িত্ব ইয়েমেনি বাহিনীর হাতে রাখার পরিকল্পনা, আর সৌদি আরব দেবে বিমান সহায়তা। আমেরিকা ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা তথ্য এবং সামরিক পরামর্শ দিয়ে সৌদিকে সহযোগিতা করছে। তবে সরাসরি মার্কিন হামলা চালানোর কথা নেই।
এই সমীকরণে পাকিস্তানের গুরুত্ব বাড়ছে আরও একটি কারণে। ৭ অগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের উপর হামলা হিসাবে দেখা হবে।
রয়টার্সের আর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তান সৌদি আরবে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা ও সামরিক কর্মী মোতায়েন করেছে। তাঁদের মূল দায়িত্ব সৌদির সীমান্ত সুরক্ষা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সহায়তা করা বলে এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তবে একই সময়ে পাকিস্তান কূটনীতির পথও খোলা রাখছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা আগামী সপ্তাহে রিয়াদে বৈঠকে বসবেন। সেখানে হুথিদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার ইরানি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ফলে এক দিকে সামরিক প্রস্তুতি, অন্য দিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার নীতি—দুই পথেই এগোচ্ছে ইসলামাবাদ।
সব মিলিয়ে, ইয়েমেন সঙ্কটে পাকিস্তানের ভূমিকা এখন আর শুধুই কূটনৈতিক সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অস্ত্র, সামরিক উপদেষ্টা এবং সৌদি ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের তথ্য সামনে আসায় ইসলামাবাদের সামরিক সম্পৃক্ততা স্পষ্ট ভাবেই বেড়েছে। তবে ইয়েমেনে সরাসরি পাকিস্তানি সেনা নামছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আর সেখানেই নজর এখন রিয়াদ ও ইসলামাবাদের পরবর্তী পদক্ষেপে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


